সিলেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির লক্ষ্যে শুরু হয়েছে আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা। ১১ এপ্রিল সিলেট ক্রীড়া কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত।
মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ও শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমান, সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে এমএসএমই খাত। সরকারের নীতি সহায়তা থাকলেও প্রকৃত পরিবর্তন আসে উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই। তিনি বলেন, এই মেলা শুধু পণ্য প্রদর্শনের জায়গা নয়, বরং নতুন ক্রেতা ও বাজার তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিলেট অঞ্চলের উদ্যোক্তারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের পণ্যকে আরও বড় বাজারে নিয়ে যেতে পারবেন। ভবিষ্যতে এই অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মো. ওবায়দুর রহমান জানান, জাতীয় এসএমই নীতিমালা ২০২৬ শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। এই নীতিমালার লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে শক্তিশালী করে বৈষম্যহীন ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জাতীয় আয়ে এসএমই খাতের অবদান ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ সুবিধা, বাজারে প্রবেশের সুযোগ, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে।
এই মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা।
মেলায় প্রায় ৬০টি স্টলে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পাটজাত পণ্য, খাদ্য ও কৃষিপণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, ইলেকট্রনিক পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হস্তশিল্প, জুয়েলারি ও ফ্যাশন পণ্য।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, মেলায় কোনো বিদেশি বা আমদানিকৃত পণ্য বিক্রি বা প্রদর্শন করা হচ্ছে না। পুরো মেলাজুড়ে দেশীয় পণ্যই প্রাধান্য পাচ্ছে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আয়োজকদের আশা, এই আয়োজন স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাজার তৈরির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।