টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (১৪ই এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনকালে তিনি স্থানীয় ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন।
সরকারি এ উদ্যোগের প্রথম ধাপে সারা দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সারাদেশে সম্প্রসারিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা কৃষকদের জন্য সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতকে আধুনিক ও টেকসই করতে কৃষকদের একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরা নগদ প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ এবং কৃষি বিমাসহ মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের পেশাজীবী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, আয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সরকার আগামী চার বছরে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮১ কোটি টাকা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
এর আগে সোমবার অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, টাঙ্গাইলসহ সারা দেশে ১১টি পয়েন্টে প্রি-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে পাইলটিং শেষে বড় পরিসরে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
শাকিলুজ্জামান
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি