আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। এই সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক প্রতারকচক্র। যাত্রীদের টিকিট নিশ্চিত করার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বাড়তে থাকায় সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ঈদযাত্রার শতভাগ ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে এবং শুধুমাত্র বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত অ্যাপ ‘রেল সেবা’র মাধ্যমেই টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। এর বাইরে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অনলাইন পেজ থেকে টিকিট কেনার চেষ্টা করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
রেলওয়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “নিশ্চিত টিকিট” দেওয়ার দাবি করছে। অথচ বাস্তবে তাদের কাছে টিকিট সংগ্রহের কোনো বৈধ ব্যবস্থা নেই। অনেক ক্ষেত্রে তারা বিকাশ, নগদ বা অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এমনকি ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বা সিমও বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রেলওয়ে জানিয়েছে, একজন যাত্রী একটি নিবন্ধিত আইডি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। টিকিট কাটার সময় সহযাত্রীদের নামও সিস্টেমে যুক্ত করতে হয়। ফলে অন্য কারও আইডি ব্যবহার করে টিকিট কেনা বা বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এছাড়া ভ্রমণের সময় টিকিটধারী ব্যক্তিকে অবশ্যই নিজের মোবাইল ফোন ও ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। আইডিধারী ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ওই টিকিট ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাত্রীদেরও সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কেউ টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার চেষ্টা করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা বা সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তাকে জানাতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) সহায়তা করবে।
এছাড়া অভিযোগ জানানোর জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন ১৩১ নম্বর চালু রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আজহার অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে ১৩ই মে ২০২৬ থেকে। এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক মানুষ ট্রেনে ভ্রমণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই যাত্রীদের নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত ভ্রমণের স্বার্থে শুধুমাত্র সরকারি অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট কেনার পরামর্শ দিয়েছে রেলওয়ে।