সামাজিক স্থিতিশীলতা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাকে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের রাজনীতির কারণে দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

শনিবার রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ‘ইসলামিক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের পোশাক, টুপি, দাড়ি কিংবা নামাজ আদায়ের মতো ধর্মীয় অনুশীলনকেও কিছু মহল সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছিল। এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সম্প্রীতির সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটারবিহীন ও গণবিচ্ছিন্ন শাসনব্যবস্থা জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছিল। ধর্মীয় বিভাজন তৈরির অপচেষ্টাও তার অংশ ছিল।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে নানা ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। ইসলামসহ সব ধর্মই অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান করার শিক্ষা দেয়। তাই সমাজে বিভাজন ও সংঘাতের কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ইসলামিক প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিভা, যুক্তিবোধ ও নৈতিক শিক্ষার বিকাশে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সমাজে ভারসাম্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখবে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকট বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে সময় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আগামী দুই বছর দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখা গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। এজন্য বিভেদ ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংসদে গঠনমূলক বিতর্ককে গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সেই বিতর্ক যেন রাজপথে সংঘাত বা বিশৃঙ্খলার কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আলেম-উলেমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তথ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চাকারীরা সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর সহযোগী হতে পারেন।

অনুষ্ঠানে আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক, হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীসহ আলেম-উলেমা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *