রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ আয়োজিত ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২৬-এর অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়। এটি ভিন্নধর্মী সক্ষমতা। সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা ও সামাজিক সহযোগিতা পেলে অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তিরাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
তিনি বলেন, সরকার অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। দেশব্যাপী সেবা কেন্দ্র স্থাপন, বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন এই ট্রাস্টের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মোঃ কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। স্বাগত বক্তব্য দেন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, প্রতিবছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হলেও অনিবার্য কারণে বাংলাদেশে পরে এ আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ১৮০ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন মানুষ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে বসবাস করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে চায়। সেখানে অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তিরা সমান মর্যাদা ও সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে। তাদের সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে না রেখে মেধা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। এ কাজে অভিভাবক, শিক্ষক, চিকিৎসক ও সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়- প্রতিটি জীবন মূল্যবান’ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রত্যেক মানুষই সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অটিজম কোনো রোগ নয়। এটি মানুষের একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তাই তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সুযোগ তৈরি করাই সমাজের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে বক্তারা অটিজম দ্রুত শনাক্তকরণ, থেরাপি সেবার বিস্তার, শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি এবং কর্মক্ষেত্রে সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে অটিজমসম্পন্ন শিশুদের বিকাশ আরও সহজ হয়।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরেন। তাদের পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।
এ সময় অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ২৫ জন সফল ব্যক্তি, সমাজকর্মী, প্রতিষ্ঠান, পিতা-মাতা ও কেয়ারগিভারকে সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অটিজম সচেতনতামূলক ভিডিওও প্রদর্শন করা হয়।