দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ–এর ব্যবস্থাপনায় আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে আমূল পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। প্রথমবারের মতো বন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে মোংলা বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। তাই বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তাঁর ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়।”
তিনি জানান, সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনায় মোংলা বন্দরকে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার নিশ্চিত করা। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সরঞ্জাম ও সেবা সুবিধা বাড়ানো গেলে মোংলা বন্দরও অল্প সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ–এর মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বন্দরে পরিণত হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আরও বেশি করে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে এ অঞ্চলে শিল্প বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে মন্ত্রী মনে করেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের উন্নয়নে কোনো বৈষম্য রাখা হবে না। “মোংলার সম্ভাবনাকে শতভাগ কাজে লাগাতে চাই,” বলেন তিনি।
প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সঙ্গে মোংলা বন্দরের উন্নয়নসংক্রান্ত যেসব চুক্তি বাতিল বা স্থগিত রয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে প্রতিটি চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা হবে। যেসব চুক্তিতে দেশের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলো কার্যকর করার আগে গভীর মূল্যায়ন করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, মোংলা নদীর ওপর একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি নতুন রেল কোচ ও ইঞ্জিন সংযোজন করে মোংলা-খুলনা রেলপথে একাধিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে পণ্য পরিবহন ও যাত্রী চলাচল সহজ হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।