টাঙ্গাইলে বৃদ্ধ হত্যা: তিন মাসেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না মেলায় ক্ষোভ

জাকির হোসেন

কালিহাতী উপজেলার পাছ চারান উত্তর পাড়া গ্রামে শওকত আলী খান কামাল (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়ায় পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মামলার বাদী ও নিহতের ছেলে নাহিদ খান অভিযোগ করেছেন, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও পরিবারকে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হচ্ছে না।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ঠা নভেম্বর রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমাতে যান শওকত আলী খান কামাল। পরদিন ৫ই নভেম্বর সকালে বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কালিহাতী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে। একই দিন আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবার মরদেহ দাফন করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুকান্ত রায় প্রাথমিকভাবে ধারণা দেন, অণ্ডকোষে চাপ ও গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ৫ই নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয় বলে তিনি জানান।

নিহতের ছেলে মো. নাহিদ খান ৫ই নভেম্বর কালিহাতী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ৬, তারিখ ০৫/১১/২০২৫; ধারাঃ ৩০২/৩৪।

পরবর্তীতে পুলিশ মো. সাজ্জাত হোসেন রুমেল (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডেও নেওয়া হয়। তবে বাদীর অভিযোগ, গ্রেপ্তার বা রিমান্ড—কোনো বিষয়েই পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

নাহিদ খান বলেন, “আমরা বারবার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু মামলার কোনো অগ্রগতির তথ্য পাইনি। তিন মাস হয়ে গেলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাইনি, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।”

স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়, নিহত শওকত আলী খান কামালের সঙ্গে শরিক পক্ষের সদস্য লুৎফর রহমান খান আরিফদের জমি ও রাস্তার পরিমাপ নিয়ে বিরোধ ছিল। বাড়ির বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরেকটি অসমর্থিত সূত্রের দাবি, ওই বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে এসব তথ্য পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

এসআই সুকান্ত রায় বলেন, “পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলেই মামলার অগ্রগতি আরও পরিষ্কার হবে।”

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন অফিস এর সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মন্জু বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সাধারণত তিন পর্যায়ে প্রক্রিয়াজাত হয়—উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল এবং ঢাকার ফরেনসিক বিভাগে। তিনি বলেন, “রিপোর্টটি এই মুহূর্তে কোথায় আছে তা জানি না। জানালে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।”

নিহতের পরিবার দাবি করছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে এবং মামলাটি ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তারা দ্রুত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তিন মাস পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না আসায় প্রশ্ন উঠছে তদন্তের গতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে। পরিবার এখন অপেক্ষা করছে—কবে আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট হাতে পাবে এবং কবে এই হত্যার পূর্ণ সত্য সামনে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *