ইথিওপিয়ায় শুরু হয়েছে আফ্রিকার অন্যতম বড় মেগা অবকাঠামো প্রকল্প—বিশোফতু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী ড. আবিয় আহমেদের উপস্থিতিতে বিমানবন্দরটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
রাজধানী আদ্দিস আবাবার বোলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্তমানে বছরে প্রায় দুই কোটির বেশি যাত্রী সামলায়। সরকারের হিসাবে আগামী তিন বছরের মধ্যেই এই ক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাবে। তাই ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যা থাকছে বিশোফতু বিমানবন্দরে
- অবস্থান: আদ্দিস আলাবা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে বিশোফতু শহরে
- প্রথম ধাপে যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা: বছরে ৬ কোটি (লক্ষ্য ২০৩০ সাল)
- পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা: বছরে ১১ কোটি যাত্রী — দুবাই ও লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরের সমান
- চারটি পূর্ণাঙ্গ রানওয়ে
- ২৭০টি বিমান পার্কিং সুবিধা
- নকশা তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস
মোট ব্যয়ের ৩০% দিচ্ছে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স। বাকিটা আসবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও ঋণ থেকে। আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ইতোমধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ সংগ্রহে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
প্রকল্প এলাকায় শুধু বিমানবন্দর নয়, পুরো একটি শহর গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- ৩৮ কিলোমিটার হাইস্পিড রেল
- বহু লেনের মহাসড়ক
- ৩৫০ কক্ষের হোটেল
- বাণিজ্যিক ভবন ও পার্ক
- প্রায় ৮০,000 মানুষের জন্য আবাসন ও সেবা কেন্দ্র
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স গ্রুপের প্রধান নির্বাহী মেসফিন তাসেভ বলেন— “এটি শুধু ইথিওপিয়ার নয়, পুরো আফ্রিকার গর্বের মুহূর্ত। বিশোফতু বিমানবন্দর আফ্রিকার ভৌগোলিক সংযোগ ও বাণিজ্য বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে এবং আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড এরিয়া বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে।”
প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারীদের পুনর্বাসনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। বিমানবন্দরের নকশায় ইথিওপিয়ার প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও গ্রেট রিফট ভ্যালির ভূপ্রকৃতির অনুপ্রেরণা রাখা হয়েছে।
প্রথম ধাপ ২০৩০ সালে চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। সফল হলে এটি হবে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর এবং বৈশ্বিক এভিয়েশন সেক্টরের নতুন কেন্দ্রবিন্দু। আফ্রিকার আকাশপথে বাণিজ্য, পর্যটন ও সংযোগতন্ত্র নতুন মাত্রা পাবে—এমনটাই ধারণা সংশ্লিষ্টদের।