লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে সম্প্রতি একটি অদ্ভুত ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০১০ সালে অর্ডার করা নোকিয়ার পুরনো বাটন-ফোনের একটি চালান ২০২৬ সালে হঠাৎ এক দোকানে এসে পৌঁছায়। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে চালানটি বছরের পর বছর গুদামে আটকে ছিল।
২০১১ সালে লিবিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নিলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়, লজিস্টিক ও কাস্টমস কার্যক্রম থমকে যায়। অনেক ব্যবসায়ী দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলেও অসংখ্য পণ্য গুদামে জমা পড়ে থেকে যায়। নোকিয়ার সেই বাটন-ফোনের চালানও হারিয়ে যায় অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।
২০২৬ সালে যখন চালানটি ফেরত আসে, তখনও বাক্সগুলো সিল করা ছিল। দোকানির বন্ধুরা একসঙ্গে বাক্স খুলে পুরনো নোকিয়া মডেলগুলো দেখেন — বাটন-ফোন, মিউজিক এডিশন ও কমিউনিকেটর সিরিজসহ সেই সময়ের জনপ্রিয় মডেলগুলো। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত ভাইরাল হয়। অনেকেই বিষয়টিকে মজার ও স্মৃতিমাখা ঘটনা হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ কেউ মনে করেন এটি যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের আরেকটি নীরব উদাহরণ।
উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, চালানটির প্রেরকের ঠিকানা ও গন্তব্য দু’টিই ছিল ত্রিপোলিতে, দূরত্ব ছিল কয়েক কিলোমিটার। তবুও গৃহযুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে সেটি ১৬ বছর ধরে কোথায় আটক ছিল তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি।
ভিডিওটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে মানুষ আলোচনা করছে। কেউ বলছেন সময়চক্রের হাস্যকর খেল, কেউ দেখছেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বাস্তব চিত্র। ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়— যুদ্ধ শুধু ধ্বংস ও প্রাণহানির গল্প নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের ক্ষুদ্র পরিকল্পনাও কীভাবে থেমে যেতে পারে দীর্ঘ সময়ের জন্য।