আসন্ন গণভোট ২০২৬ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ কাভার করতে বাংলাদেশে আসছেন মোট ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন।
নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভুটান ও নাইজেরিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আইসিএপিপি (ICAPP—International Conference of Asian Political Parties)-এর স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান।
এ ছাড়া তুরস্ক থেকে সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিলের কর্মকর্তাসহ ১০ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল আসছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়া থেকে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং ফিলিপাইন, জর্জিয়া, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্ডান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, পাকিস্তান ও ইরানের নির্বাচন কমিশনের কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন।
গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সংবাদ কাভার করতে প্রায় ১৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক বাংলাদেশে আসছেন। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে আসছেন ৪৮ জন সাংবাদিক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা থেকে থাকছেন সাতজন সাংবাদিক। পাশাপাশি জাপানের এনএইচকে (NHK), বিবিসি নিউজ (BBC News), অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), রয়টার্স (Reuters), এবিসি অস্ট্রেলিয়া (ABC Australia) এবং ডয়েচে ভেলে (DW)-এর প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও এই তালিকায় রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও প্রায় ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক রয়েছেন ২২৩ জন। কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL) থেকে ২৮ জন এবং ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (IRI) থেকে ১২ জন পর্যবেক্ষক আসছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রায় ৩০ জন পর্যবেক্ষক স্বপ্রণোদিতভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিদেশি অতিথি, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ভিসাসংক্রান্ত সব ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। তাঁরা যাতে স্বাধীন, নিরাপদ ও নিরপেক্ষভাবে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এই ব্যাপক আন্তর্জাতিক উপস্থিতিকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।