ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা ও ডাটা গভর্ন্যান্স বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি জোরদার করতে রাজধানীতে একটি উচ্চপর্যায়ের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯ই ফেব্রুয়ারী (সোমবার) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত সেমিনারের শিরোনাম ছিল— “Personal Data Protection Ordinance, 2025: Framework, Insights and Practical Implications”।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ডেটা সুরক্ষা ও সাইবার গভর্ন্যান্স নিয়ে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। শুরুতে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ডেটা গভর্ন্যান্সের গুরুত্ব বোঝানো এবং জরুরি প্রকল্প নিয়ে কাজ করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অংশীজনের পরামর্শে এই কাঠামো দাঁড় করানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, ডেটা সুরক্ষাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে— পার্সোনাল ডেটা ও জেনারেল ডেটা। এই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল ডেটা গভর্ন্যান্স অথরিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্তৃপক্ষ ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিনিময়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, সাইবার সেফটি অর্ডিন্যান্স, পার্সোনাল ডেটা প্রটেকশন আইন, টেলিযোগাযোগ আইন ও ডাক সেবা অধ্যাদেশসহ মোট পাঁচটি আইনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটা সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
সেমিনারে জানানো হয়, প্রথমবারের মতো সারভেলেন্স ব্যবস্থাকে স্পষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। জরুরি ও অজরুরি সারভেলেন্স আলাদা করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি এবং কোয়াসি-জুডিশিয়াল নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্তে সীমিত সংখ্যক সংস্থাকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে নাগরিকের গোপনীয়তা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা—দুটোই সুরক্ষিত থাকে।
বিশেষ সহকারী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো নাগরিকের গোপনীয়তা রক্ষা করা, ডিজিটাল অর্থনীতিকে নিরাপদ রাখা এবং একই সঙ্গে উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের পরিবেশ বজায় রাখা। এই কাঠামো টেকসই করতে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও একাডেমিয়ার সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নেতৃত্বে এবং এনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (EDGE) প্রকল্পের সহায়তায় সেমিনারটি আয়োজন করা হয়। এতে নীতিনির্ধারক, আইসিটি বিশেষজ্ঞ, একাডেমিক, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।
সেমিনারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম সচিব মুর্তুজা জুলকার নাঈন নোমান “পার্সোনাল ডাটা প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স (PDPO), ২০২৫” নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।