উপকূলীয় জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নে একটি বিরল ঘটনার খবর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সৌদি প্রবাসী মো. মনির মিয়ার বাড়িতে ছয় পা–বিশিষ্ট একটি বাছুরের জন্ম হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাছুরটির জন্ম স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। জন্মের পর থেকে এটি সুস্থ আছে এবং মায়ের দুধ পান করছে। অতিরিক্ত দুটি পা শরীরের পেছনের অংশে সংযুক্ত রয়েছে বলে দেখা গেছে। তবে এসব পা স্বাভাবিকভাবে চলাচলে অংশ নিবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের গ্রামসহ দূর–দূরান্ত থেকে মানুষজন বাছুরটিকে এক নজর দেখতে ভিড় করছেন। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি এখন আলোচনার প্রধান বিষয়।
প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও একেবারে অজানা নয়। ভ্রূণের বিকাশের সময় জিনগত ত্রুটি বা কোষ বিভাজনের অস্বাভাবিকতার কারণে অতিরিক্ত অঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পলিমেলিয়া বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অঙ্গ পুরোপুরি কার্যকর থাকে না।
এ ধরনের প্রাণী জন্মের পর সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারবে কি না, তা নির্ভর করে অতিরিক্ত অঙ্গ শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে তার ওপর। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত পশুচিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা–নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। প্রয়োজন হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেও অতিরিক্ত অঙ্গ অপসারণ করা সম্ভব।
স্থানীয় প্রশাসন বা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরিদর্শন করে বাছুরটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
এদিকে, বিরল এই ঘটনা রমাগঞ্জ ইউনিয়নকে সাময়িকভাবে কৌতূহলের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। গ্রামবাংলার স্বাভাবিক জীবনের ভেতর এমন অস্বাভাবিক ঘটনা মানুষের আগ্রহ ও বিস্ময় দুটোকেই আবারও সামনে এনে দিয়েছে।
আব্দুর রাজ্জাক
বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি