কর্মজীবী নারীদের জন্য আলাদা সেবা: নারী চালক-কর্মী সহ বিআরটিসি বাস

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা বাসসেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, এই ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ পরিচালিত হবে নারী চালক, নারী কন্ডাক্টর ও নারী হেলপারের মাধ্যমে।

উদ্যোগটির লক্ষ্য—নারীদের জন্য নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও ভোগান্তিমুক্ত গণপরিবহন নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ আরও সহজ করা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মজীবী ও শিক্ষার্থী নারীদের যাতায়াতে নিরাপত্তা ও সময়নিষ্ঠতা বাড়ানোই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

এই সেবাকে ঘিরে কয়েকটি স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • “স্বস্তির আরেক নাম, নারী বন্ধব বিআরটিসি বাস।”
  • “নারীর পথচলায় ভয়ের শেষ, নিরাপদ বাসেই এগোবে দেশ।”
  • “নিরাপদ যাত্রা কর্মে গতি—নারীর হাতেও অর্থনৈতিক শক্তি।”
  • “নারীর হাতে ঘুরবে চাকা, বদলে যাবে আগামীর ঢাকা।”

স্লোগানগুলোতে নিরাপদ যাত্রা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং নারী-নেতৃত্বাধীন সেবার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক পত্রের মাধ্যমে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’–সংক্রান্ত বার্তা ও স্লোগানসমূহ রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন–সহ অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারের অনুরোধ জানিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার জনসচেতনতা বাড়াতে এবং নতুন সেবাটি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দিতে চায়।

পরিবহন খাত বিশ্লেষকদের মতে, আলাদা নারী-পরিচালিত বাসসেবা কার্যকর করতে হলে প্রশিক্ষিত চালক-কর্মী, নির্ধারিত রুট, সময়সূচির কঠোর অনুসরণ এবং পর্যাপ্ত নজরদারি প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে ভাড়া, রুট কাভারেজ ও যাত্রীসংখ্যা—এসব বিষয়ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

কবে থেকে এই সেবা চালু হবে, কতটি বাস নামানো হবে এবং কোন কোন রুটে চলবে—এ বিষয়ে বিস্তারিত সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তুতি শেষ হলে পর্যায়ক্রমে জানানো হবে।

নারীদের নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করা দীর্ঘদিনের একটি দাবি। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *