জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই সনদে গণভোটের দাবি খেলাফত মজলিসের

 

জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোটের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিলের মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ পরিষদের ৮ম অধিবেশন ও মজলিসে শুরার জরুরি অধিবেশনে এ দাবি জানানো হয়।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। পরিচালনা করেন মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ ও যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় দুই সহস্রাধিক তৃণমূল নেতা অংশ নেন।

সভায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে খেলাফত মজলিসের অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শুরা সদস্য ও তৃণমূল নেতারা মত দেন— সংগঠনটি এককভাবে, ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায়, বা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, “রাজনীতিতে কাউকেই স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু মনে করা যায় না। ইসলাম, দেশ ও সংগঠনের কল্যাণই আমাদের সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।” তিনি আরও বলেন, যে সিদ্ধান্তই গৃহীত হোক না কেন, সবাইকে তা মেনে নিতে হবে এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে।

তিনি প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “নির্বাচনে জয়ী না হলেও জনগণের পাশে থাকতে হবে। সংগঠনের প্রার্থীরা আগামী পাঁচ বছর নিজেদের এলাকায় মানুষের সুখ-দুঃখে যুক্ত থাকবেন।”

অধিবেশনে বক্তব্য দেন সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, মাওলানা আকরাম আলী, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, মাওলানা আলী উসমান, মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী ও মাওলানা মাহবুবুল হকসহ আরও অনেকে।

অধিবেশনে নয়টি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো হলো—

  • সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন,
  • আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও ইসলামের অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ,
  • জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের দাবি,
  • ফিলিস্তিন ও ভারতের মুসলিম নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ,
  • কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা,
  • সীমান্ত হত্যা বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার,
  • ইসকনসহ হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন প্রতিরোধ এবং
  • খেলাফত প্রতিষ্ঠার আহ্বান।

সভায় বক্তারা বলেন, ইসলামের কল্যাণে মামুনুল হকই তাঁদের নেতৃত্বের প্রতীক, এবং প্রচলিত নির্বাচনী রাজনীতিকে তাঁরা খেলাফত প্রতিষ্ঠার সহায়ক মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *