১৭ এপ্রিল বিকেল ঘড়ির কাটা যখন ৪টা হলো, তখন সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের উন্মুক্ত আঙিনাটা যেন হঠাৎ করেই জেগে উঠল। চারদিকে নতুন বছরের আহ্বানের দোলা। বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন আয়োজন করেছিল “বৈশাখী আনন্দ আড্ডা-১৪৩৩”। আড্ডা তো নয়, যেন কবিতার এক স্নিগ্ধ স্রোতধারা!
বিকেল চারটে থেকে রাত নয়টা—দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আড্ডায় কবি, আবৃত্তিশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী আর গণমাধ্যমকর্মীদের এক অদ্ভুত মিলনমেলা বসেছিল। এমন একটা আড্ডা, যেখানে কেউ কারো চেয়ে বড় নয়, সবাই কেবল শিল্পের অনুরাগী।
আবৃত্তি, গান আর অগোছালো সব গল্প—এভাবেই সময় গড়িয়ে যাচ্ছিল। গোধূলি পেরিয়ে সন্ধ্যা নামল, আকাশের রঙ বদলালো, কিন্তু আড্ডার প্রাণখোলা আলাপ ফুরোলো না। আয়োজকরা গণমাধ্যমকে বললেন, “উপস্থিত সবার ভালোবাসায় আমরা আজ ধন্য। আপনাদের এই সমর্থনই আমাদের পথ চলার শক্তি।”
বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন এর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বলছিলেন, আবৃত্তিশিল্পের বিকাশে এবং মানুষের মননের কল্যাণে এমন আড্ডা খুব জরুরি। সংস্কৃতি যখন মানুষের সাথে মানুষের বন্ধন দৃঢ় করে, তখন আর ভয়ের কিছু থাকে না। এই বৈশাখী আনন্দ আড্ডা কেবল একটি আয়োজন ছিল না, ছিল পারস্পরিক ভালোবাসা আর সহমর্মিতার এক চমৎকার পাঠ।
রাত নয়টার দিকে যখন সবাই বাড়ির পথ ধরছিলেন, তখন সবার চোখেমুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। মনে হচ্ছিল, শিল্প আর সংস্কৃতির এই চর্চাই হয়তো আমাদের বেঁচে থাকার মূল রসদ। আগামীতে এমন আরও অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় থাকলেন পিপাসু মানুষ। কারণ, মানুষ তো শেষ পর্যন্ত এমন একটু আড্ডা আর কবিতার সান্নিধ্যেই বাঁচতে চায়।