জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো এখন জরুরি—এমন বার্তা উঠে এসেছে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ অনুষ্ঠিত এক সেমিনার থেকে।
রোববার (১৯শে এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহীদ ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে এ সেমিনারের আয়োজন করে হাসপাতালের গাইনী বিভাগের ফিটোমেটারনাল মেডিসিন ইউনিট। বিশ্ব জন্মগত ত্রুটি দিবস (৩ মার্চ) উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—“Many Birth Defects, One Voice” বা “বিভিন্ন জন্মগত ত্রুটি—একটি সম্মিলিত কণ্ঠস্বর”।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, জন্মগত ত্রুটির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। এর মধ্যে আছে জেনেটিক সমস্যা, পুষ্টিহীনতা, ক্ষতিকর কেমিকেলের সংস্পর্শ, টিনজাত খাবারের অতিরিক্ত ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ এবং বেশি বয়সে গর্ভধারণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই জানা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই ত্রুটি প্রতিরোধ সম্ভব।
অনুষ্ঠানে অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি ও ফিটোমেটারনাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, সময়মতো স্ক্রিনিং, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং আক্রান্তদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর ফিটোমেটারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাবাসসুম পারভিন বলেন, রোগীর পারিবারিক ইতিহাস জানা জরুরি। তিনি গর্ভধারণের আগে ও শুরুতে ফলিক অ্যাসিড সেবনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি নিয়মিত গর্ভকালীন স্ক্রিনিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
বক্তারা বলেন, শুধু চিকিৎসক নয়, প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণ পর্যায়ের ব্যক্তিদেরও এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। তবেই প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি কার্যকর হবে।
সেমিনারে জন্মগত ত্রুটির কারণ, ধরন ও চিকিৎসা সহজভাবে তুলে ধরতে একটি নাটিকা মঞ্চস্থ করা হয়। এটি রচনা ও পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক ডা. আরিফা শারমিন মায়া।
এছাড়া ত্রুটিসম্পন্ন রোগীদের নিয়ে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা হয়। এতে বিভিন্ন গাইনী ইউনিটের প্রধানরা অংশ নেন। আলোচনাটি পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক দিনা লায়লা ও ডা. আরিফা শারমিন মায়া।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মাজহারুল শাহীন, উপাধ্যক্ষ ও গাইনী বিভাগের প্রধান ডা. মুসাররাত সুলতানা, পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা।
সেমিনারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাজমিরা সুলতানা।
বক্তারা বলেন, জন্মগত ত্রুটিযুক্ত শিশুদের জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ থাকে। তাদের প্রয়োজন সচেতনতা, সহমর্মিতা এবং সঠিক চিকিৎসা।
তাদের বার্তা স্পষ্ট—ত্রুটি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু কণ্ঠ এক। লক্ষ্য একটাই: সচেতনতা বৃদ্ধি, মানবিক আচরণ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।