জৈব কৃষি রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ

ঢাকায় কৃষি মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ এতে অংশ নেন। বৈঠকের লক্ষ্য ছিল দুই দেশের কৃষি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা।

বৈঠকে জলবায়ু সহনশীল কৃষি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশের কৃষি এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বড় চাপে রয়েছে। বন্যা, লবণাক্ততা ও খরার ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত নিয়েও আলোচনা হয়। টেকসই উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অ্যাকুয়াকালচার ও ডেইরি খাতে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর কথা উঠে আসে।

দুই দেশের চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোও পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত বীজ, উদ্যানতত্ত্ব, পানি ব্যবস্থাপনা এবং মাছ চাষ প্রযুক্তি। এসব খাতে ইতোমধ্যে নেদারল্যান্ডস গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এই সহযোগিতা ভূমিকা রাখছে।

বৈঠকে নতুন সম্ভাবনাও খোঁজা হয়েছে। রপ্তানিমুখী জৈব কৃষি একটি বড় সুযোগ হিসেবে উঠে আসে। ইউরোপের বাজারে জৈব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

নেদারল্যান্ডস বিশ্বে কৃষি প্রযুক্তিতে শীর্ষ দেশগুলোর একটি। সীমিত জমিতে বেশি উৎপাদনের ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়।

বৈঠকের শেষে দুই পক্ষ দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। টেকসই উন্নয়ন এবং বাস্তব ফলাফল অর্জনে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *