বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের নবগঠিত জনসুরাজ পার্টি (জেএসপি) একটিও আসন জিততে পারেনি। দলটি ২৩৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। বেশিরভাগ প্রার্থী মোট ভোটের ১০ শতাংশও পায়নি। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, মোট ভোটের অন্তত এক-ষষ্ঠাংশ ভোট পেতে হয় জামানত ফেরত পাওয়ার জন্য। সাধারণ প্রার্থীর জামানত ১০ হাজার টাকা, আর এসসি–এসটি প্রার্থীর ৫ হাজার টাকা।
জেএসপি প্রার্থীরা কত ভোট পেলেন?
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, দলটির অধিকাংশ প্রার্থী খুব কম ভোট পেয়েছেন। অনেক জায়গায় তাদের ভোট সংখ্যা NOTA-র নিচে নেমে গেছে। উদাহরণ হিসেবে, ফরবেসগঞ্জ আসনে মোহাম্মদ একরামুল হক মাত্র ৯৭৭ ভোট পেয়েছেন। সেখানে NOTA পেয়েছে ৩১১৪ ভোট।
সবচেয়ে ভালো করেছেন নবীন কুমার সিং ওরফে অভয় সিং। তিনি মারহৌরা আসনে দ্বিতীয় হয়েছেন। পেয়েছেন ৫৮,১৯০ ভোট। কিন্তু আরজেডির জিতেন্দ্র কুমার রায় ৮৬,১১৮ ভোটে এগিয়ে গিয়ে তাকে প্রায় ২৭,৯২৮ ভোটে হারান।
খুব কমসংখ্যক জেএসপি প্রার্থী ১০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন ইউটিউবার ত্রিপুরারি কুমার তিওয়ারি ওরফে মানিশ কশ্যপ—তিনি চানপাতিয়া আসনে ১৭.২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। জকিহাটে সর্ফরাজ আলম পেয়েছেন ১৬.২৬ শতাংশ। জনপ্রিয় ভোজপুরি গায়ক রিতেশ পাণ্ডে মাত্র ৭.৪৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।
জেএসপি কেন ব্যর্থ হলো?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত কিশোরের নিজে নির্বাচন না-লড়াই করাই দলটির সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে। এতে দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
কিশোর প্রথমে ঘোষণা করেছিলেন, তিনি রাঘোপুর থেকে তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে লড়বেন। পরে তিনি সিদ্ধান্ত বদলান। বলেন, অন্য প্রার্থীদের প্রচারের দায়িত্ব নেওয়াই তাঁর প্রধান কাজ।
আরও একটি বড় কারণ হলো—দলের জোরালো প্রচার ও বেকারত্ব, অভিবাসন আর শিল্পের অভাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার পরও ভোটারদের মন জিততে পারেনি জেএসপি।
পরাজয় নিয়ে জেএসপি কী বলছে?
দলের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় জেএসপি-বিহারের সভাপতি মনোজ ভরতি বলেন, তারা শুরু থেকেই ভেবেছিলেন—দল হয় খুব উপরে থাকবে, নয় একেবারে নিচে।
তিনি বলেন, “আমরা নতুন রাজনীতি শুরু করতে চেয়েছিলাম। মানুষের সমস্যার কথা বলতে চেয়েছিলাম। যদি মানুষ আমাদের কথা বুঝত, আমরা উপরে থাকতাম। না-হলে নিচেই থাকতাম। শেষ পর্যন্ত আমরা মানুষকে বোঝাতে পারিনি। তবুও চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
প্রশান্ত কিশোর আগেই দাবি করেছিলেন যে তারা ১৫০ আসন পাবে। পরে তিনি বলেন—ফল ‘একেবারে উপরে বা নিচে’ যেকোনো দিকেই যেতে পারে। মাঝামাঝি কিছু হবে না।