নওরীন ওশিন
ভৌগলিক কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। যেহেতু অন্যান্য দূর্যোগের মতো ভূমিকম্প প্রতিবছর দূর্যোগ আকারে পরিলক্ষিত হয়না তাই এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাথাব্যথা কম । তাই অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও সচেতনতার খুব একটা প্রয়োজন অনুভব করেন না সাধারণ মানুষ।
এই সচেতনতার ঘাটতি বড় বিপদের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পূর্ব, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল সক্রিয় ফল্ট লাইনের কাছে তিনটি ভিন্ন টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। ভূতাত্ত্বিক চাপ এবং প্লেটগুলোর গতিশীলতার কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় সাড়ে বারো কোটি বছর আগে, বাংলাদেশের অংশবিশেষ ভারতীয় প্লেটের সঙ্গে গন্ডোয়ানাল্যান্ড নামক একটি বিশাল মহাদেশের অংশ ছিল।
পরবর্তীতে, ভারতীয় প্লেটের উত্তরমুখী সঞ্চালনের ফলে এটির সাথে ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষ ঘটে, যা হিমালয় পর্বতমালা এবং বাংলাদেশের বদ্বীপীয় সমভূমি সৃষ্টিতে অবদান রাখে। এসব কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে।
ওদিকে অতিরিক্ত জনসংখ্যা পানির চাহিদা মেটাতে ঢাকায় একদিকে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের করা হচ্ছে ঠিকই কিন্তু কংক্রিটের শহরে মাটি, ঘাস , মাঠ দিন দিন কমে যাওয়ায় যে পরিমাণ পানি পুনরায় ভূগর্ভস্থে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে তা পানি উত্তোলনের তুলনায় অনেক অনেক অনেক কম। ফলে মাটির নিচে ভ্যাকুয়াম তৈরি হচ্ছে। তাই ভূমিকম্পে ঢাকা শহরের ক্ষয় ক্ষতি বেশি হবার সম্ভাবনা বাড়ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় অধিকাংশ প্রাণহানি ঘটে আতঙ্ক, ভুল পদক্ষেপ এবং জীর্ণ ভবন ধসে পড়ার কারণে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ— “ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে জরুরি হলো সচেতনতা ও সঠিক প্রস্তুতি।” সেই সাথে দীর্ঘ মেয়াদি প্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজন আজ থেকেই পানি অপচয়, দূষণ বন্ধ করা এবং পানি পুনরায় ভূগর্ভস্থে প্রবেশের ব্যবস্থা বাড়ানো।
ভূমিকম্পের সময় করণীয়:
মাথা ঠান্ডা রাখুন, দৌড়াদৌড়ি করবেন না
মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিন
কাঁচ, জানালা ও ভারী আলমারি থেকে দূরে থাকুন
ভবনের ভেতরে থাকলে বিদ্যুৎচালিত লিফট ব্যবহার করবেন না
বাইরে থাকলে খোলা স্থানে দাঁড়ান
ভূমিকম্প পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়—এ কথাটি বহুবার বলা হলেও, নিরাপদ ভবন নির্মাণ, মহড়া, স্কুল-কলেজে সচেতনতা বৃদ্ধি, ঘরোয়া প্রস্তুতি—এসবই ভূমিকম্পের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
মানুষের জীবন সবচেয়ে মূল্যবান। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যক্তিগত প্রস্তুতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ—সবকিছুতেই সমন্বয় প্রয়োজন। আমরা প্রস্তুত থাকলেই ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।