থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও নৌ-যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। গত ২৩–২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিজ এক্সেলেন্সি মিসেস থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি চট্টগ্রাম সফর করেন।
সফরের অংশ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূতকে চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামো, কার্যক্রম এবং সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিদর্শন করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ রানং–চট্টগ্রাম নতুন সমুদ্রপথ চালুর গুরুত্ব তুলে ধরেন। এই নৌপথ চালু হলে থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় কমে ৫ থেকে ৭ দিনে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য খরচ কমবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে থাইল্যান্ডের সামুদ্রিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
আলোচনায় জানানো হয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং দুই দেশের চেম্বার অব কমার্স ও শিল্প সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতে রানং বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রথম পরীক্ষামূলক চালান পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে উভয় পক্ষ একমত হন যে, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরিত হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বাড়বে এবং এই নতুন নৌপথ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে।
চট্টগ্রাম সফরের সময় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে একটি হলো সিপি চট্টগ্রাম ফিড মিল। এটি থাই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিপি বাংলাদেশের একটি প্রকল্প, যেখানে পোলট্রি ও অ্যাকুয়াকালচার খাদ্য উৎপাদন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া তিনি কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) পরিদর্শন করেন। এটি বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এই অঞ্চল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। কেইপিজেডে ইয়াংওয়ান করপোরেশন (বাংলাদেশ) কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা বাংলাদেশকে টেক্সটাইল, পোশাক ও জুতা উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করছে।
এই সফরকে বাংলাদেশ–থাইল্যান্ড সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নতুন নৌপথ চালু হলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সংযোগে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।