প্যালেস্টাইনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেই চিকিৎসক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন একদল তরুণ-তরুণী। ইসরাইল কর্তৃক ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজার আল–শিফা হাসপাতাল চত্বরে মেডিকেল শিক্ষা সম্পন্ন করা এসব তরুণ চিকিৎসকের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি আলোড়ন তুলেছে। অনেকের কাছে এটি শুধু একটি ছবি নয়, সময়ের এক জীবন্ত দলিল।
আল–শিফা হাসপাতাল গাজার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কেন্দ্র। সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় এই হাসপাতাল একাধিকবার হামলা, অবরোধ ও বিদ্যুৎ সংকটের মুখে পড়েছে। চিকিৎসাসেবা কার্যত ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতির মধ্যেও এখানেই কাজ করেছেন চিকিৎসক ও শিক্ষানবিশরা। সেই হাসপাতালের সামনেই আজ দাঁড়িয়ে আছেন তরুণ চিকিৎসকেরা—যাঁরা পড়াশোনা করেছেন বোমা হামলা, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট, খাদ্যাভাব এবং প্রিয়জন হারানোর শোক বয়ে নিয়ে।
গাজার স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যুদ্ধের সময় চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণ ছিল অনিশ্চিত। অনেক সময় হাসপাতালের করিডরেই পড়াশোনা করতে হয়েছে। রোগীর চাপ, আহত ও নিহত মানুষের সারির মাঝেই তাঁদের প্রশিক্ষণ শেষ করতে হয়েছে। নিজের জীবন রক্ষার নিশ্চয়তা না থাকলেও তাঁরা চিকিৎসক হওয়ার শপথ থেকে সরে যাননি।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তরুণ চিকিৎসকের অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবায় যুক্ত ছিলেন। কেউ কেউ পরিবারের সদস্য হারিয়েছেন, কেউ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। তবু প্রতিদিন হাসপাতালে এসে আহত মানুষদের সেবা দিয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকর্মীরা সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বহু চিকিৎসক নিহত বা আহত হয়েছেন। এমন বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের সামনে আসা মানবিক দায়িত্ব ও সাহসের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল–শিফা হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসক হওয়ার এই মুহূর্ত তাঁদের ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবতার টিকে থাকার এক শক্ত বার্তা দিচ্ছে। মৃত্যুর ছায়ায় দাঁড়িয়েও জীবন বাঁচানোর শপথ—এই তরুণ চিকিৎসকেরা সেই ইতিহাসেরই সাক্ষী হয়ে রইলেন।