দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখননের একটি বড় কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। সভায় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।
সভায় জানানো হয়, ঈদের আগেই প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বড়রামপুর এলাকায় সাহাপাড়া খালে। একই সঙ্গে দেশের ৬৩টি জেলায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
সভায় উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন এবং এ উদ্যোগকে এক সময় গণআন্দোলনের রূপ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, নতুন করে এই কর্মসূচিকে সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দীর্ঘদিন খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দেশের অনেক এলাকায় সেচের সমস্যা এবং জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এতে কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে এবং খাল খনন কর্মসূচি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। পাশাপাশি ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে খাল খননের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর মহাপরিচালক মোঃ এনায়েত উল্ল্যাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেচব্যবস্থা উন্নত হওয়া, জলাবদ্ধতা কমানো এবং স্থানীয় জলাধারগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।