পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে ঢাকা, ফরিদপুর ও বরিশালের সঙ্গে মাগুরার মহম্মদপুর সংযোগকারী সড়কটি এখন অন্যতম ব্যস্ততম রুটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এই সড়কে শত শত যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু মহম্মদপুর বাজারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত অস্থায়ী বাস টার্মিনালের কারণে তীব্র যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী—সবাই পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
এই সমস্যা সমাধান ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারিভাবে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হলেও, চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেটি এখনো চালু হয়নি।
কোটি টাকার প্রকল্প, চার বছরেও অচল
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারি ও জাইকা (JICA)-এর অর্থায়নে মধুমতি সেতুর পূর্ব পাশে জাঙ্গালীয়া এলাকায় সরকারি খাস জমিতে টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। একই বছরের শেষের দিকেই কাজ শেষ হয়। কিন্তু নির্মাণ সমাপ্তির চার বছর পার হলেও টার্মিনালটি এখনো চালু করা হয়নি।
টার্মিনাল এখন গো-চারণভূমি ও মাদকসেবীদের আড্ডা
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে টার্মিনালটির বেহাল দশা। যাত্রী ছাউনির টাইলস ও পলেস্তরা খসে পড়ছে, জায়গাটি এখন গরু-ছাগল চরানোর মাঠ ও ধান শুকানোর চাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাতে এটি মাদকসেবী ও বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়।
অচল অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ
বর্তমানে মহম্মদপুর বাজারের বিভিন্ন সড়কে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যেমন বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, তেমনি যাত্রী ও চালকরা পড়ছেন মারাত্মক ভোগান্তিতে।
স্থানীয় যাত্রী মুজিবার মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এত সুন্দর বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হলেও সেটি চালু করা হচ্ছে না। চালু না হওয়ায় কোনো উপকারই পাচ্ছি না। বরং সরকারের কোটি টাকার প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে। আমরা দ্রুত এটি চালুর দাবি জানাই।”
একজন বাসচালক জানান, টার্মিনাল চালু না থাকায় বাধ্য হয়ে তাদের রাস্তার উপরেই যাত্রী ওঠানামা করাতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
কেন চালু হচ্ছে না টার্মিনাল?
বাস কাউন্টার মালিক সমিতির সদস্য কাবুল মুসল্লী বলেন,
“ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নবনির্মিত টার্মিনালে পর্যাপ্ত কাউন্টারের সুবিধা নেই। এছাড়া কাউন্টারগুলো অনেকটা ভেতরের দিকে হওয়ায় যাত্রীরা সেখানে যেতে চাইবে না। তবে বাস মালিক সমিতি অনুমতি দিলে আমরা সেখানে যেতে প্রস্তুত।”
প্রশাসনের আশ্বাস
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার বলেন,
“বাস কাউন্টার ও মালিক সমিতির লোকজনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী কম হবে—এমন কিছু অজুহাত রয়েছে তাদের। দ্রুত এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে টার্মিনালটি চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জনগণের প্রশ্ন
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কেন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো চার বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকবে? এর দায় কার?
মহম্মদপুরের সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ দ্রুত বাস টার্মিনালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, টার্মিনালটি চালু হলে একদিকে যেমন যানজট কমবে ও যাত্রীসেবা বাড়বে, তেমনি সরকারের কোটি টাকার বিনিয়োগও সার্থকতা পাবে।