দক্ষিণ ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে এক প্রভাবশালী জ্যোতিষীকে ঘিরে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর যৌন অপরাধের অভিযোগ। স্বঘোষিত ধর্মগুরু ও সংখ্যাতত্ত্ববিদ অশোক খারাট, যিনি ‘ক্যাপ্টেন’ নামেও পরিচিত, তাকে ধর্ষণসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
৬৭ বছর বয়সী খারাট একসময় মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পর তিনি জ্যোতিষ ও সংখ্যাতত্ত্বের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নাসিকের মিরগাঁও এলাকায় ‘শ্রী শিবনিকা সংস্থান ট্রাস্ট’ গড়ে তুলে একটি আধ্যাত্মিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেন, যা ধীরে ধীরে তার কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
পুলিশ জানায়, গত ১৫ বছরে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। জমি, ফার্মহাউস ও আবাসন মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধনী ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরামর্শের জন্য তিনি একেকবারে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিতেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
তবে এই প্রভাব ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের আড়ালে গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৩৫ বছর বয়সী এক নারী অভিযোগ করেন, স্বামীর জীবনের ঝুঁকির ভয় দেখিয়ে তাকে বারবার ডেকে নেওয়া হতো। পরে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে পানীয় খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই নির্যাতন চলেছে।
তদন্তে আরও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। একটি পেনড্রাইভ থেকে ৫৮ জন নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ভিডিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, ভুক্তভোগীদের কখনো ভয় দেখিয়ে, কখনো ‘উপকার’ বা ‘আধ্যাত্মিক সমাধান’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফাঁদে ফেলা হতো। গোপনে এসব ভিডিও ধারণ করা হতো, যা পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা।
এই ঘটনার পর মহারাষ্ট্র সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তেজস্বী সাতপুতে। খারাটের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী ধর্ষণসহ একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। পাশাপাশি ব্ল্যাক ম্যাজিক বিরোধী আইনের আওতাতেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, খারাটের সঙ্গে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান রূপালী চাকনকর-এর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে খারাটকে ‘গুরু’ হিসেবে সম্মান জানাতে দেখা গেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গেও তার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, যদিও এসব সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও ভুক্তভোগীর সন্ধান করছে।
তদন্ত এখনো চলমান, এবং এই মামলায় আরও বিস্ময়কর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।