
চীনের ঐতিহ্যবাহী ক্যান্টন ফেয়ার এখন তরুণদের হাতে নতুন রূপ পাচ্ছে। আগে যেখানে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরাই ছিলেন প্রভাবশালী, এখন সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেনারেশন জি উদ্যোক্তারা। তাদের হাতে স্মার্টফোন, পাশে ল্যাপটপ, আর মাথায় নতুন চিন্তা—কীভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে চীনা পণ্যকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে বিশ্ববাজারে উপস্থাপন করা যায়।
২৫ বছর বয়সী ডরোথি চৌ, ফেয়ারের এক তরুণ উদ্যোক্তা, বলেন, “বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করতে হলে শুধু বাণিজ্যিক জ্ঞান নয়, আন্তরিকতাও জরুরি। নিজের ব্যক্তিত্ব দেখাতে জানতে হয়, তাতেই বিশ্বাস তৈরি হয়।”
চীনের রপ্তানি খাত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও, তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তি–দক্ষতা খাতটিকে নতুন গতি দিচ্ছে। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ১৬ শতাংশ কমলেও, সামগ্রিক রপ্তানি বেড়েছে—বিশেষ করে যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে।
এই খাতেই কাজ করছেন ২২ বছর বয়সী ট্রেন্ট উ, ফুচৌভিত্তিক এজিজি পাওয়ার টেকনোলজি কোম্পানির তরুণ সেলস প্রতিনিধি। তিনি বলেন, “চাকরি পাওয়ার আগে দিনে ২০০টা সিভি পাঠাতাম! এখন ফেসবুক, লিংকডইন, আর হোয়াটসঅ্যাপ দিয়ে সরাসরি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সুবিধা—আমাদের হাতে অনেক টুল আছে।”
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের ক্যান্টন ফেয়ারে আগত ক্রেতাদের ৬০ শতাংশই ছিলেন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও অংশগ্রহণ বেড়েছে।
ফরাসি ক্রেতা জুলিয়ান সাম্প্রে বলেন, “ফ্রান্সে দক্ষ কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই রোবটের চাহিদা বাড়ছে। এখানে এত তরুণ উদ্যোক্তা দেখে ভালো লাগছে—ভবিষ্যৎ সত্যিই তাদের হাতে।”
গ্রিসের তরুণ উদ্যোক্তা অ্যান্টোনিওস জেনোস জানান, “আমার বাবা-মার সময়ে ইন্টারনেট ছিল না। তারা পরিচিতদের মাধ্যমেই ব্যবসা করতেন। এখন সবকিছু বদলে গেছে—এক্সপোতে এলেই ভবিষ্যৎ দেখা যায়।”
চীনের রপ্তানি খাতের এই পরিবর্তনের পেছনে আছে শুধু বিশাল সরবরাহ চেইন নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তা, ডিজিটাল দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া। তারা এখন ‘মেড ইন চায়না’র পাশাপাশি নতুন ধারণা প্রতিষ্ঠা করছে—‘ক্রিয়েটেড বাই ইয়ং চায়না’।
কুয়াংচৌর ক্যান্টন ফেয়ার তাই এখন কেবল একটি বাণিজ্য মেলা নয়, বরং চীনের তরুণ প্রজন্মের গ্লোবাল আত্মপ্রকাশের প্রতীক হয়ে উঠেছে।