
চলতি বছরের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সমন্বিত জাতীয় পরিবহন মহাপরিকল্পনা (Integrated National Transport Master Plan) প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিকল্পনা দেশের পরিবহন খাতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথ—সব ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা একই কাঠামোর আওতায় আসবে।
প্রধান উপদেষ্টার সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেল বিষয়ক বিশেষ সহকারী শেখ মঈনউদ্দিন জানিয়েছেন, পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি বহু-মাত্রিক নেটওয়ার্কে রূপ দেওয়া, যেখানে সব যোগাযোগ মাধ্যম পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দক্ষতা ও নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিকল্পনাটি তৈরি করা হচ্ছে।”
এই মহাপরিকল্পনার আওতায় রেলপথ সম্প্রসারণ, বন্দর ও নৌপথ আধুনিকায়ন, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে জনপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ ও পরিবেশবান্ধব যানবাহন চালুর উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে কার্বন নিঃসরণ কমানো যায়।
মঈনউদ্দিন আরও জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই “সমন্বিত জাতীয় পরিবহন রূপরেখা ও মহাপরিকল্পনা” উভয়ই সম্পন্ন হবে। এটি ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় প্রণীত এই পরিকল্পনায় দেশীয় বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত আছেন। তাদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে, দূরবর্তী অঞ্চলে কৃষিপণ্য নষ্ট হওয়া রোধ করা যাবে এবং রাজধানীমুখী উন্নয়নের চাপ কমানো সম্ভব হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, সমন্বিত এই পরিবহন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা দূর হবে, দেশের সব অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং টেকসই অগ্রগতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।