
তুরস্কের ফুটবলে চাঞ্চল্যকর এক কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়েছে। তুর্কি ফুটবল ফেডারেশন (TFF) জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে যুক্ত ৫৭১ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৩৭১ জনেরই রয়েছে বেটিং বা অনলাইন জুয়ার অ্যাকাউন্ট। এর মধ্যে ১৫২ জন বর্তমানে সক্রিয়ভাবে বেটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন।
ফেডারেশনের এক তদন্তে দেখা গেছে, একজন কর্মকর্তা একাই ১৮ হাজার ২২৭টি বেট করেছেন। এই তথ্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল নৈতিক বিচ্যুতি নয়, বরং খেলায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক গুরুতর অপরাধ।
TFF-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ দুই বিভাগের সাতজন রেফারি ও ১৫ জন সহকারী রেফারি এই বেটিং কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ, মাঠে ন্যায়বিচার রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই জুয়ার ফাঁদে পা দিয়েছেন।
ফেডারেশনের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এসব কর্মকর্তা এক হাজারেরও বেশি ম্যাচে সরাসরি বেটিং করেছেন। এর মধ্যে স্থানীয় লিগ, কাপ ও আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচও রয়েছে। ফলে তুর্কি ফুটবলের পুরো কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
ফেডারেশনের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পেয়েছি, তাতে ফুটবল প্রশাসনের মধ্যে বড় ধরনের নৈতিক অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
দেশটির ক্রীড়া মহলে ইতিমধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফেনারবাহচে ক্লাবের এক সাবেক পরিচালক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “যারা খেলার নিয়ম রক্ষা করবেন, তারাই যদি জুয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে মাঠে ন্যায্যতার জায়গাটা কোথায় থাকবে?”
এ ঘটনায় তুরস্কের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও উদ্বেগ জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফুটবল বিশ্লেষকেরা বলছেন, এত বড় পরিসরে বেটিংয়ে কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা শুধুমাত্র অর্থলোভ নয়, বরং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ব্যর্থতারও প্রতিফলন। এর ফলে খেলোয়াড় ও দর্শকদের আস্থায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
TFF জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত শেষ হয়েছে। এখন শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি দেখছে। ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বেটিংয়ের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ফুটবলের সততা রক্ষায় আমরা শূন্য সহনশীলতার নীতি মেনে চলব।”
তবে সমালোচকদের অভিযোগ, ফেডারেশন এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিল। তাঁদের মতে, মিডিয়ায় চাপ না এলে হয়তো এই তথ্য প্রকাশই হতো না।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই কেলেঙ্কারি তুর্কি ফুটবলের জন্য বড় এক ধাক্কা। খেলায় ন্যায্যতা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে ফেডারেশনকে এখন উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে—না হলে এই আঘাত থেকে পুনরুদ্ধার কঠিন হবে।