
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) আধুনিক, স্বতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক মানের সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকারের গঠিত ‘ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অর্গানাইজেশন শক্তিশালীকরণ টাস্কফোর্স’।
অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এই টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে বিবিএস প্রায় পাঁচ দশকের পুরোনো কাঠামো থেকে বের হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করবে, যেখানে তথ্যের মান, স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের মূলভিত্তি হবে।
প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা, গুণগত মান, তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১২টি ক্ষেত্রভিত্তিক সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বিবিএসের নতুন নাম হবে ‘স্ট্যাটিস্টিক্স বাংলাদেশ’ (স্ট্যাটবিডি), যা একটি আইনগত স্বীকৃত জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। সংস্থাটির নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হবে এবং শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনা হবে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী সংস্থার প্রধানের পদবি হবে ‘চিফ স্ট্যাটিস্টিশিয়ান’, যা একটি বিশেষ স্কেল পদে উন্নীত করা হবে। চিফ স্ট্যাটিস্টিশিয়ান সরাসরি ট্রাস্ট অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি কমিশন অব স্ট্যাটিস্টিক্স (টিটিসিএস)–এর কাছে জবাবদিহি করবেন। এই টিটিসিএস হবে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি স্বতন্ত্র তদারকি সংস্থা।
টিটিসিএসের চেয়ারম্যান থাকবেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা বা মন্ত্রী। সদস্য হিসেবে থাকবেন অর্থ উপদেষ্টা বা মন্ত্রী, সংসদীয় কমিটির চেয়ার, চারজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ, চিফ স্ট্যাটিস্টিশিয়ান (সদস্যসচিব) ও পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব।
এ ছাড়া বিদ্যমান ক্যাডার ও নন–ক্যাডার কর্মকর্তাদের একীভূত করে ‘ইউনিফায়েড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ক্যাডার সার্ভিস’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১ জন অতিরিক্ত চিফ স্ট্যাটিস্টিশিয়ান (গ্রেড–১), ৫ জন জয়েন্ট চিফ স্ট্যাটিস্টিশিয়ান (গ্রেড–২), ১৬ জন ডেপুটি চিফ স্ট্যাটিস্টিশিয়ান (গ্রেড–৩), ৪০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ স্ট্যাটিস্টিশিয়ান (গ্রেড–৫), ১৩৩ জন ডেপুটি স্ট্যাটিস্টিশিয়ান, ৫০৩ জন সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট স্ট্যাটিস্টিশিয়ান এবং ২৪৭ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট স্ট্যাটিস্টিশিয়ানের পদ সৃষ্টি বা আপগ্রেড করার সুপারিশ করা হয়েছে। সব পদ অনুমোদনের পর সুপারনিউমারারি পদ হিসেবে কার্যকর হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য ‘রেকমেন্ডেশন ইমপ্লিমেন্টেশন টাস্ক টিম (আরআইটিটি)’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই টিমের চেয়ারম্যান হবেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা এবং তারা এক মাসের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবেন।