বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ ব্র্যান্ডের তালিকায় টানা ষষ্ঠ বছরের মতো স্থান করে নিয়েছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। বৈশ্বিক ব্র্যান্ড পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইন্টারব্র্যান্ড ২০২5 সালের ‘বেস্ট গ্লোবাল ব্র্যান্ডস’ তালিকায় এ স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড ভ্যালু দাঁড়িয়েছে ৯০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২০ সাল থেকে এশিয়ার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্যামসাং ধারাবাহিকভাবে বৈশ্বিক শীর্ষ পাঁচ ব্র্যান্ডের মধ্যে অবস্থান ধরে রেখেছে।
ইন্টারব্র্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, স্যামসাংয়ের এই শক্তিশালী অবস্থানের মূল কারণ হলো এর ব্যবসায়িক ইউনিটগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের ধারাবাহিক প্রয়োগ। ‘ইনোভেশন ফর অল’ নীতিতে বিশ্বাসী স্যামসাং বিশ্বজুড়ে ক্রেতাদের জন্য এআই প্রযুক্তি আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করে তুলছে।
বিশেষ করে কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস খাতে প্রতিটি পণ্যের ধরন অনুযায়ী উপযোগী এআই প্রযুক্তি যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। টেলিভিশনে ভিশন এআই ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্নত ও পারসোনালাইজড ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে স্যামসাং। পাশাপাশি, রেফ্রিজারেটর ও ওয়াশিং মেশিনেও বিস্পোক এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, উন্নত পারফরম্যান্স ও আকর্ষণীয় ডিজাইন নিশ্চিত করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া, স্মার্টথিংস অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে কানেক্টেড হোম সিস্টেমে ব্যবহারকারীদের জন্য আরও উন্নত ও সমন্বিত এআই অভিজ্ঞতা দিচ্ছে স্যামসাং।
মোবাইল খাতেও প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। গ্যালাক্সি এআই প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে স্যামসাং এ বছর ৪০ কোটি ডিভাইসে এই সুবিধা চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে। অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে তারা ব্যবহারকারীদের জন্য আরও ব্যক্তি-ভিত্তিক ও নিরাপদ অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। নিরাপত্তার দিক থেকে স্যামসাং নক্স বর্তমানে মোবাইল খাতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।
এ স্বীকৃতি প্রসঙ্গে স্যামসাং কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশের ডিরেক্টর ও হেড অব বিজনেস শাহরিয়ার বিন লুৎফর বলেন,
“স্যামসাং বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি সহজলভ্য করা এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনের মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ স্বীকৃতি সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।”
ইন্টারব্র্যান্ডের ‘বেস্ট গ্লোবাল ব্র্যান্ডস’ তালিকা প্রস্তুত হয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, ক্রেতার ওপর প্রভাব, এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অবস্থান বিবেচনা করে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ও নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড মূল্যায়ন ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত।