বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আয়োজিত প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়ালে ‘ফিটনেসবিহীন’ বলে অবমূল্যায়িত সেই কিশোর ফুটবলার তাসিন হোসেনকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ব্রেন্টফোর্ড এখন দেখছে “সুপার ট্যালেন্ট” হিসেবে।
মাত্র কয়েক মাস আগে বাফুফের তত্ত্বাবধানে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন ১৫ বছর বয়সী তাসিন। সুইডেনের বয়সভিত্তিক দলে খেলার সুযোগ পেয়েও দেশপ্রেমের টানে বাংলাদেশ দলে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ট্রায়ালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কোচ ও কর্মকর্তার অবহেলা এবং পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাবের কারণে তাসিনকে “ফিটনেসহীন” বলে বাদ দেওয়া হয়।
ফুটবল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই ট্রায়ালে যোগ্যতা নয়, বরং ‘সিন্ডিকেটের প্রভাব’ই ছিল নির্বাচন প্রক্রিয়ার মূল চালিকা শক্তি। অনেক প্রবাসী ফুটবলারই বাফুফের এই ট্রায়ালে অপেশাদার মনোভাব, দুর্নীতি ও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছিলেন।
এরই মধ্যে সুইডেন ও ইংল্যান্ডের কয়েকটি ক্রীড়া মাধ্যম জানিয়েছে, ব্রেন্টফোর্ড এফসি বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া তাসিনকে ট্রায়ালের জন্য ডেকেছে। ক্লাবটি তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় উইঙ্গার হিসেবে বিবেচনা করছে। ব্রেন্টফোর্ডের এক স্কাউট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, “তাসিনের স্পিড, ড্রিবলিং আর খেলার বুদ্ধিমত্তা তাকে আলাদা করে তোলে—সে আমাদের নজরে বিশেষ প্রতিভা।”
যদি তাসিন ব্রেন্টফোর্ডের ট্রায়ালে জায়গা করে নিতে পারেন, তবে বাংলাদেশ হয়তো হারাবে আরেকজন সম্ভাবনাময় ফুটবল প্রতিভাকে—যার মূলে আছে বাফুফের অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট, দুর্নীতি ও যোগ্যতার প্রতি অবজ্ঞা।
ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, “এমন প্রতিভারা বারবার অবহেলিত হচ্ছে বলেই বাংলাদেশ ফুটবলের উন্নতি হচ্ছে না। তাসিনের মতো খেলোয়াড়রা প্রমাণ করছে—আমাদের সমস্যা খেলোয়াড়ের নয়, সমস্যা ব্যবস্থাপনায়।”
বাংলাদেশ ফুটবলের অগ্রযাত্রা যেখানে প্রবাসী প্রতিভার অবদানে সমৃদ্ধ হতে পারত, সেখানে সিন্ডিকেটের প্রভাব ও দুর্নীতিপূর্ণ সিদ্ধান্তই হয়ে উঠছে ফুটবলের প্রধান বাধা।