জাহানারা ইমাম সংগ্রহের বই বিক্রির অভিযোগে বাংলা একাডেমির জবাব

 

বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, জাহানারা ইমাম সংগ্রহের কোনো বই বিক্রি করা হয়নি। পরিত্যক্ত ও মানহীন ঘোষিত বই বিক্রির প্রক্রিয়াকে ঘিরে সম্প্রতি একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) প্রকাশিত দৈনিক প্রথম আলো–এর অনলাইন প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম এই বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনে কিছু আংশিক সত্য উপস্থাপন করা হলেও তা এমনভাবে হাইলাইট করা হয়েছে, যাতে পাঠকের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।’

বাংলা একাডেমির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ জুন থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পরিত্যক্ত বই ও কাগজপত্র নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে বইমেলায় মানহীন হিসেবে বাতিল ঘোষিত বই, ব্যবহার–অযোগ্য গ্রন্থাগারের বই এবং বিক্রয়–অযোগ্য প্রকাশনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জাহানারা ইমাম বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত সংগ্রহের বই এ তালিকায় ছিল না। মহাপরিচালক বলেন, “জাহানারা ইমামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া বইগুলো আগের মতোই সংরক্ষিত রয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রণীত ‘গ্রন্থ বাছাই কমিটির গ্রহণযোগ্য বইয়ের তালিকা’ অনুযায়ী ৩০৮টি বই এখনো গ্রন্থাগারের তিনতলার নির্দিষ্ট সেলফে রয়েছে।”

বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে ‘গ্রন্থাগার পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটি’ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ওই কমিটি বই ছাঁটাইয়ের জন্য একটি উপকমিটি গঠন করে এবং দীর্ঘদিন ধরে বই বাছাইয়ের কাজ চালায়।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বহু বছর ধরে অব্যবহৃত ও মানহীন বই গুদামজাত ছিল। ওই বইগুলো নিলামে বিক্রির আগে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে, এগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাহানারা ইমাম সংগ্রহের বই বিক্রির অভিযোগ “অসত্য ও বিভ্রান্তিকর”। প্রথম আলোর প্রতিবেদক ইচ্ছাকৃতভাবে এমন শিরোনাম দিয়েছেন যাতে মনে হয়, বর্তমান প্রশাসন জাহানারা ইমামের বই বিক্রি করেছে—যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

তবে বাংলা একাডেমি স্বীকার করেছে, বহু বছর আগে পরিত্যক্ত বইয়ের তালিকায় ভুলক্রমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই যুক্ত হয়ে থাকতে পারে। মহাপরিচালক বলেন, “এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের দায় অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু বহু বছর আগের সেই প্রশাসনিক ভুল বর্তমান কর্তৃপক্ষের ওপর চাপানো সঙ্গত নয়।”

বাংলা একাডেমি সংবাদমাধ্যম ও আগ্রহী ব্যক্তিদের সংগ্রহশালা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যাতে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা যায়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *