১০ নভেম্বর সোমবার, সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে ঘটে এক ভয়াবহ ঘটনা। লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর একের সামনে পার্ক করা একটি গাড়িতে হঠাৎ প্রবল বিস্ফোরণ হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটার কিছু আগে ঘটে এই বিস্ফোরণ, যা মুহূর্তেই গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এক কিলোমিটার দূর থেকেও।
চোখের পলকে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের আরও তিনটি গাড়িতে। তীব্র তাপে রাস্তার আলো ভেঙে পড়ে, কাছের দোকানগুলোর কাচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। স্থানীয়দের অনেকেই ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালিয়ে যান। কিছু সময়ের মধ্যেই পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, দেখা যায় শুধু লালচে আগুনের ঝলকানি।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সাতটি ফায়ার টেন্ডার টানা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। উদ্ধারকারীরা পুড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে দগ্ধ দেহ উদ্ধার করে লোকনায়ক জয়প্রকাশ (LNJP) হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অন্তত আট থেকে নয়জন নিহত হয়েছেন, এবং বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিস্ফোরণের পর লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশন ও আশপাশের রাস্তাগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় পুলিশ। দিল্লি পুলিশ, তাদের স্পেশাল সেল ও ফরেনসিক টিম রাতেই ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিকভাবে তারা জানায়, বিস্ফোরণটি হয়তো একটি CNG সিলিন্ডার থেকে ঘটেছে। তবে ঘটনাস্থলে পাওয়া কিছু ধাতব অংশ দেখে সন্দেহ জাগে, এটি কোনো নিম্নক্ষমতার ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) হতেও পারে।
এই ঘটনার পর দিল্লি, মুম্বাই ও উত্তর প্রদেশে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়। লাল কেল্লা এলাকাটি সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয় এবং বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড সেখানে তল্লাশি চালায়। পর্যটকদের জনপ্রিয় এই এলাকায় এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেখা যায়নি।
দিল্লির সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। অনেকে বলছেন, লাল কেল্লার মতো উচ্চ নিরাপত্তার এলাকায় যদি এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তবে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। বিস্ফোরণের পর টহল দিচ্ছে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। যদিও এখনো এটি সন্ত্রাসবাদী হামলা নাকি দুর্ঘটনা— সে বিষয়ে কোনও নিশ্চিত বক্তব্য আসেনি। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এমন বিস্ফোরণ দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল দিক তুলে ধরেছে।
সন্ধ্যার ব্যস্ততম সময়ে ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণ শুধু হতাহত নয়, মানুষের মনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। রাজধানীর হৃদয়ে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ড এখন ভারতের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত, দিল্লি আরও কিছুদিন থাকবে কড়া নিরাপত্তার ছায়ায়।