ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ খাতিবজাদেহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তেহরান একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক চুক্তির পক্ষে, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপোষ করবে না। সম্প্রতি আবু ধাবিতে অনুষ্ঠিত ১২তম আবু ধাবি স্ট্র্যাটেজিক ডিবেটে তিনি একথা জানান।
খাতিবজাদেহ বলেন, “আমরা একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক চুক্তি চাই, কিন্তু ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে না এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কূটনৈতিক বার্তা প্রেরণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। খাতিবজাদেহের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানের কাছে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাঠাচ্ছে, যা কূটনীতির প্রতি “বিশ্বাসঘাতকতা” ছাড়া কিছু নয়। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির পথে থাকলে, আমরাও সেই পথে থাকবো। কিন্তু শর্তহীন আলোচনা ইরান গ্রহণ করবে না।”
চলতি বছরের জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে পারমাণবিক আলোচনা বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সেই সংঘাতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যা আলোচনার ভবিষ্যতকে আরও জটিল করে তোলে। খাতিবজাদেহ জানান, “আমরা আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত, তবে তা হতে হবে সম্মানজনক ও সমতার ভিত্তিতে।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনীও সম্প্রতি জানিয়েছেন, চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসা হবে না। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে পারমাণবিক চুক্তির পথ কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তবে খাতিবজাদেহের বক্তব্যে একথা স্পষ্ট—ইরান আলোচনা চায়, তবে শর্তহীন নয়, এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিনিময়ে কোনো চুক্তি হবে না।