চালকদের ব্যক্তিগত তথ্য আইস এর হাতে! ডেমোক্র্যাটদের তীব্র উদ্বেগ

 

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি ডেমোক্র্যাট-নেতৃত্বাধীন রাজ্যের মোটরযান বিভাগ (ডিএমভি) থেকে চালকদের ব্যক্তিগত তথ্য অজান্তেই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসি)-এর কাছে চলে যাচ্ছে—এমন উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছেন দেশটির ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা। রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশের পর বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা রাজ্য গভর্নরদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আইনপ্রণেতাদের চিঠিতে বলা হয়েছে, Nlets নামে একটি জাতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে রাজ্যগুলোর ডিএমভি ডেটাবেসে প্রায় স্বয়ংক্রিয় প্রবেশাধিকার পেয়েছে আইসি ও অন্যান্য ফেডারেল সংস্থা। এই পদ্ধতির মাধ্যমে রাজ্যের কোনো কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই চালকদের লাইসেন্স, ছবি, ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য অনুসন্ধান করা যাচ্ছে। শুধু গত এক বছরে আইসি এই ডেটাবেসে ২৯০,০০০-এর বেশি অনুসন্ধান চালিয়েছে, আর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন (এইচএসআই) করেছে আরও ৬০০,০০০ অনুসন্ধান ।

আইসি যে এই তথ্য ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করছে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন আইনপ্রণেতারা। তাদের দাবি, আইসি ‘মোবাইল ফর্টিফাই’ নামে একটি অ্যাপ ব্যবহার করে রাস্তায় সাধারণ মানুষকে শনাক্ত করছে, যা প্রায় ২০ কোটি ছবির একটি ডেটাবেস থেকে তথ্য মিলিয়ে কাজ করছে । এই প্রক্রিয়ায় রাজ্যের নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

আইনপ্রণেতারা অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো ও উইসকনসিন-এর গভর্নরদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। এই রাজ্যগুলোতে ডেমোক্র্যাটিক প্রশাসন থাকলেও, তথ্য সুরক্ষায় ঘাটতি রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। তবে কিছু রাজ্য যেমন নিউইয়র্ক, ইলিনয়স, ম্যাসাচুসেটস, মিনেসোটা ও ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই আইসির প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে ।

সিনেটর রন ওয়াইডেনসহ ৩৯ জন ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা গভর্নরদের উদ্দেশে বলেছেন, “আমরা আপনাদের আইসির প্রবেশাধিকার বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এটি একটি সাধারণ যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ, যা জনগণের নিরাপত্তা বাড়াবে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তথ্যের অপব্যবহার রোধ করবে” ।

উল্লেখযোগ্য যে, এই তথ্য আদানপ্রদান প্রক্রিয়া এতটাই জটিল প্রযুক্তিগতভাবে যে অনেক রাজ্যের সরকারি কর্মকর্তারাই জানেন না তাদের রাজ্যের ডেটা কারা ব্যবহার করছে। এই “তথ্যগত ফাঁক”-এর সুযোগ নিয়েই আইসি ও অন্যান্য ফেডারেল সংস্থা ব্যাপক হারে ডেটা সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *