দুই শতাধিক বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশ-উত্তর ক্ষত-বিক্ষত সম্পর্কে নতুন অধ্যায় রচনা করল অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্য। বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের গভর্নর মার্গারেট গার্ডনার স্বাক্ষরের মাধ্যমে দেশটির প্রথম আনুষ্ঠানিক *ট্রিটি* বা চুক্তি আইনে পরিণত হলো, যা স্থানীয় আদিবাসী জনগণের সঙ্গে রাজ্য সরকারের ঐতিহাসিক সমঝোতার ভিত্তি স্থাপন করল ।
-Gellung Warl’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিনিধি সংস্থা গঠন, যা আদিবাসীদের পক্ষে রাজ্য আইন ও নীতি প্রণয়নে পরামর্শ দেবে ।
– সত্য-উদঘাটন (truth-telling) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপনিবেশ-কালীন বৈষম্যের স্বীকৃতি ও আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রদান ।
– আদিবাসী ভাষায় ভৌগোলিক স্থানের নামকরণ, ইতিহাস পাঠ্যক্রমে উপনিবেশ-নির্ভর বর্ণনার সংশোধন এবং আদিবাসী স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ তহবিল গঠন ।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য প্রধান জাসিন্টা অ্যালান ও First Peoples’ Assembly-এর সহ-সভাপতি নগারা মারে ও রুবেন বার্গ। অ্যালান বলেন, “আজকের এই দিন দেখিয়ে দিল প্রাচীনতম সংস্কৃতি ও আধুনিক গণতন্ত্র পাশাপাশি দাঁড়াতে পারে”।
জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ভোল্কার তুর্ক এক বিবৃতিতে চুক্তিকে ‘আসল পরিবর্তনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ আখ্যা দেন, যা উপনিবেশ-জনিত বঞ্চনার স্বীকৃতি দেয় এবং আদিবাসীদের জীবন-জিজ্ঞাসায় সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ।
অপরদিকে, রাজ্য বিরোধী দল লিবারেল-ন্যাশনাল জোট চুক্তির বিরোধিতা করে জানিয়েছে, সরকার পরিবর্তন হলে তারা একে বাতিল করার চেষ্টা করবে । কিছু সমালোচক মনে করছেন, চুক্তিটি আইনগতভাবে ‘নেটিভ টাইটেল’-এর মতো শক্তিশালী নয়; এটি একটি কাঠামো মাত্র, ভবিষ্যতে স্থানীয় গোষ্ঠী-ভিত্তিক চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে ।
২০১৬ সালে শুরু হওয়া ট্রিটি প্রক্রিয়ায় ২০২১-২৪ সালের Yoorrook Justice Commission-এর সত্য-উদঘাটন প্রতিবেদন বড় ভূমিকা রাখে । চুক্তির আনুষ্ঠানিক কার্যকর হবে আগামী ১২ ডিসেম্বর ফেডারেশন স্কোয়ারে জনসমক্ষে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, তবে পূর্ণাঙ্গ পরামর্শক প্রক্রিয়া চালু হতে পারে ২০২৬-এর মাঝামাঝি ।
ভিক্টোরিয়ার এই উদ্যোগ সমগ্র অস্ট্রেলিয়ায় অন্য রাজ্যগুলোর জন্যও নজির স্থাপন করল। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ছাড়া বাকি সব রাজ্য ও অঞ্চল ইতোমধ্যে নিজস্ব ট্রিটি আলোচনা শুরু করেছে । তাই এই প্রথম চুক্তি শুধু একটি রাজ্যের সীমান্ত ছাড়িয়ে জাতীয় পুনর্গঠনের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে—যেখানে *‘ভয়েস’-এর পরাজয়* এর দু’বছর পরও ট্রিটি নতুন আশার বার্তা ছড়াচ্ছে