ঢাকা, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ — বাংলাদেশ আজ ঐতিহাসিক এক রায়ের অপেক্ষায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা হবে । এই রায়কে কেন্দ্র করে গোটা দেশজুড়ে বিরাজ করছে উত্তেজনা ও উদ্বেগ। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে সরকারের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়, যাতে অন্তত ১,৪০০ জন নিহত হন।
আজকের রায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রায়ে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন, বলেছেন, “শেখ হাসিনা ছিলেন এই অপরাধগুলোর মূল হোতা”। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই মামলাকে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে অভিহিত করা হয়েছে।
রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় গণপরিবহন চলাচল সীমিত, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ, যারা বর্তমানে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল, গত ১৩ নভেম্বর “ঢাকা লকডাউন” কর্মসূচি ঘোষণা করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এই অবস্থায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহলও এই রায়ের দিকে নজর রাখছে।
এই রায় শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ধারা ও গণতান্ত্রিক পুনঃস্থাপনের পথেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।