‘নাগরিক কোয়ালিশন’—বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠন আর মানবাধিকারকর্মীর একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম। তারা বলল, দেশের যে শ্রেণি, বর্ণ, লিঙ্গ, জাতিগত বা ধর্মীয় পরিচয়ই হোক, সবার অধিকার সমান। আর সেই অধিকার রক্ষার কথা বলতে গিয়েই তাদের বক্তব্যের কেন্দ্রে উঠে এল আহমদিয়া সম্প্রদায়ের প্রতি সাম্প্রতিক বৈরিতা।
সংগঠনের লিখিত বিবৃতিতে জানানো হয়—রাজনৈতিক উত্তাপের সময় দেশে এমন কিছু ঘটনা ঘটছে, যা শুধু উদ্বেগই বাড়ায় না, বরং আমাদের সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, ঘরবাড়ি, এমনকি তাদের ধর্মীয় পরিচয়কে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে হামলা, উসকানি ও বহিষ্কারের ডাক—এসবই তাদের নজরে এসেছে। নাগরিক কোয়ালিশন বলছে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার দিতে বাধ্য, এবং সেই দায়িত্ব এড়ানোর কোনো অবকাশ নেই।
সমাবেশে বক্তারা বললেন, ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে—বিদ্বেষ কখনোই ভালো কিছু বয়ে আনে না। অতীতে যে ভুলের কারণে পাকিস্তানে আহমদিয়াদের বিরুদ্ধে আইনি বৈষম্য তৈরি হয়েছিল, তার ভয়াবহ পরিণতি দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ দেখেছে। সেই ছায়া যেন নতুন করে বাংলাদেশে না নামে—এটাই তাদের প্রধান দাবি।
নাগরিক কোয়ালিশন মনে করে, দেশে কিছু রাজনৈতিক শক্তি ভোটের প্রতিযোগিতায় সুবিধা পেতে ধর্মীয় বিভাজনকে ব্যবহার করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে, আর উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে দুর্বল সম্প্রদায়গুলো টার্গেট হচ্ছে সহজেই।
বিবৃতিতে সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে—যে কোনো ধরনের উসকানি, বৈষম্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার। পাশাপাশি গণমাধ্যম, নাগরিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান এসেছে—অহিংস ও মুক্তচিন্তার বাংলাদেশ গড়তে সবার সহায়তা জরুরি।
“যেখানে মানুষ ভয়ে থাকে, সেখানে মুক্ত রাষ্ট্র তৈরি হয় না।”
নাগরিক কোয়ালিশনের এই বার্তা তাই শুধু আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জন্য নয়—পুরো দেশটির জন্যই এক সতর্ক ঘণ্টা।