২০২৫ সালের অক্টোবরে এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজা শহরের ধ্বংসস্তূপে গড়ে উঠেছে এক অসাধারণ দৃশ্য—মোবাইল স্কেটবোর্ড পার্ক। যেখানে বোমায় ক্ষতবিক্ষত রাস্তা, ধসে পড়া দেয়াল আর বিধ্বস্ত ভবনের স্তূপ, সেখানেই এখন শিশুদের হাসি আর স্কেটবোর্ডের চাকার শব্দ।
রাজাব আল-রিফি নামের এক তরুণ স্কেটবোর্ডার ও ফটোগ্রাফার ২০০৮ থেকেই গাজার শিশুদের স্কেটবোর্ডিং শেখাচ্ছেন। যুদ্ধ শুরুর আগে গাজার একমাত্র স্কেট টিম “স্কেটপাল”-এর কোচ ছিলেন তিনি। কিন্তু ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে তাদের স্কেটপার্ক ধ্বংস হয়ে যায়। এরপরও থেমে থাকেননি রাজাব। বর্তমানে তিনি ও তার সহকর্মীরা বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে ঘুরে ঘুরে শিশুদের স্কেটবোর্ডিং শেখাচ্ছেন।
এই স্কেটবোর্ডিং সেশন শুধু খেলা নয়, এটি এখন গাজার শিশুদের জন্য এক ধরনের থেরাপি। যুদ্ধে যারা সব হারিয়েছে, যাদের স্কুল-বাড়ি ধ্বংস, পরিবার বিচ্ছিন্ন—তাদের জন্য এই কয়েক ঘণ্টার আনন্দ এক অসামান্য মানসিক রেহাই। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গাজায় কমপক্ষে ১০ লক্ষ শিশু মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার প্রয়োজনে রয়েছে।
রিমাস দাল্লুল নামের আরেক কোচ জানান, “আমাদের কাছে পর্যাপ্ত স্কেটবোর্ড নেই, প্রোটেক্টিভ গিয়ার তো নেই-ই। শিশুরা পড়ে গেলে জামা কাপড় দিয়েই আঘাত সামলায়। কিন্তু তারপরও তারা ফিরে আসে—কারণ খেলার আনন্দ ব্যথার চেয়ে বড়।”
এই উদ্যোগ শুধু শিশুদের মনে আনন্দ ফিরিয়ে আনছে না, বরং তাদের মধ্যে সহনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক সম্পৃক্ততা গড়ে তুলছে। স্কেটবোর্ডিং শিখতে গিয়ে শিশুরা শেখে পড়ে যাওয়া, আবার উঠে দাঁড়ানো—যা তাদের বর্তমান জীবনের সাথে অদ্ভুতভাবে মিলে যায়।
রাজাব আল-রিফি বলেন, “আমরা সব হারিয়েছি। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন, আমাদের ভবিষ্যৎ—আমরা হারাতে দেব না।”
ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে স্কেটবোর্ড নিয়ে ছুটে চলা এই শিশুরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছে—যুদ্ধ হয়তো তাদের বাড়ি, পরিবার ও স্বপ্ন ধ্বংস করেছে, কিন্তু তাদের শৈশব, তাদের আনন্দ, তাদের আশা—তা কেড়ে নিতে পারেনি। স্কেটবোর্ডিং এখন তাদের প্রতিরোধ, তাদের মুক্তি, তাদের ভাষা।