ঢাকায় ভারত–মহাসাগর বিষয়ক দুই দিনের এমডিএ কর্মশালা শুরু

ঢাকার ইন্টারকনটিনেন্টাল হোটেলে সোমবার (১৭ নভেম্বর) শুরু হয়েছে দুই দিনের আন্তর্জাতিক কর্মশালা ‘ভারত–মহাসাগরে সামুদ্রিক ক্ষেত্রের সচেতনতা (এমডিএ)’। বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ ভারত–মহাসাগর অঞ্চলের নৌ–কর্মকর্তা, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা এতে যোগ দিয়েছেন। কর্মশালাটি আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিমরাড) এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কলেজ (এএনইউ)।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান ও বিমরাডের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমরাডের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল। বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতি এবং দায়িত্বশীল সমুদ্র–ব্যবস্থাপনায় এমডিএ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাগত বক্তব্যে বিমরাডের মহাপরিচালক কমোডর সৈয়দ মেসবাহ উদ্দিন আহমদ (অব.) এবং এএনইউ–এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. ডেভিড ব্রিউস্টার বলেন, এমডিএ শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, তথ্য আদান–প্রদান ও আঞ্চলিক সমন্বয় জোরদারের একটি ভিত্তি।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিমরাড বাংলাদেশের সামুদ্রিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উন্নত এমডিএ–ব্যবস্থা নিরাপত্তা–হুমকি, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং সমুদ্র–সম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল জানান, কার্যকর এমডিএ গড়ে তুলতে পারস্পরিক আস্থা, যৌথ দায়িত্ব এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তিনি বাংলাদেশের সামুদ্রিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বিমরাডকে আঞ্চলিক গবেষণা ও নীতিগত সংলাপের একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথি অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, বাস্তবসম্মত সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে নৌ–অভিযান পরিচালনা, সংকট মোকাবিলা, সম্পদ রক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়। তিনি নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন। পাশাপাশি অবৈধ মাছধরা, চোরাচালান, মানবপাচার, জলদস্যুতা ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

দুই দিনের এই কর্মশালায় তথ্য বিনিময়, নজরদারি প্রযুক্তি, বিশ্লেষণ–পদ্ধতি ও দক্ষতা–বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন–প্রয়োগকারী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিয়েছেন।

শেষে অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানগত সমন্বয় শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তাঁদের মতে, এই কর্মশালা বাংলাদেশের নিরাপদ, টেকসই ও সমৃদ্ধ নীল–অর্থনীতি গড়ার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *