গত ১৬ মাসে রাজ্যটিতে এসেছে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি। এই প্রবাহের নেপথ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নারা চন্দ্রবাবু নায়ডুর ছেলে নারা লোকেশ। তিনি বর্তমানে রাজ্যের পঞ্চায়েত-রাজ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী। লোকেশ জানিয়েছেন, শুধু গুগলই প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশাখাপত্তনম থেকে তিরুপতি পর্যন্ত উপকূলজুড়ে নতুন কারখানা, গবেষণা কেন্দ্র ও ফিনটেক প্রকল্পের পরিকল্পনা চলছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে টিডিপির মূল বার্তা ছিল—কেন্দ্রে মোদী এবং রাজ্যে নায়ডু–লোকেশ নেতৃত্ব একসঙ্গে কাজ করলে বিনিয়োগ আসবে বেশি, সুযোগ তৈরি হবে আরও। নির্বাচনের জয় এই বার্তাকে আরও শক্ত করেছে। এরপর থেকেই আলোচনায় উঠে এসেছে ‘অ্যান্ধ্রা মডেল’—যা অনেকের মতে গুজরাতের পর ভারতের নতুন বিনিয়োগ কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
তবে সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, প্রতিশ্রুতির অর্ধেকও বাস্তবে রূপ নিতে গেলে বড় বাধা পেরোতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশ ছাড়পত্র ও কখনো কখনো দেখা দেওয়া স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা এই অগ্রগতির পথে বিরাট চ্যালেঞ্জ হতে পারে। লোকেশ এ ব্যাপারে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, সিঙ্গাপুরের মতো “সিঙ্গল-উইন্ডো” ব্যবস্থা চালু করে ৯০ দিনের মধ্যে সব অনুমোদন দেওয়া হবে।
১৯৯০-এর দশকে বাবা নায়ডু যেভাবে হায়দরাবাদকে “সাইবারাবাদ” বানিয়েছিলেন, ছেলে লোকেশ এখন অন্ধ্রপ্রদেশকে “গ্রিন-টেক ক্যালিফোর্নিয়া” করতে চান। তাঁর লক্ষ্য, ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজ্যে মোট ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। এর মধ্যে এক-চতুর্থাংশ আসবে বিদেশি বিনিয়োগ থেকে।
দিল্লির অর্থনীতিবিদ শ্রুতি শর্মা মনে করেন, মোদী–নায়ডু জোট দক্ষিণ ভারতের বিনিয়োগে নতুন গতি এনেছে। তবে সফলতা নির্ভর করবে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা, অবকাঠামোর উন্নতি এবং প্রশাসনিক গতি কতটা বজায় রাখা যায় তার ওপর।
অন্তত এখনকার হিসাব বলছে—অন্ধ্রপ্রদেশই দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিনিয়োগ গন্তব্য। আর এই গতি এনে দিয়েছেন নারা লোকেশ, যিনি রাজনৈতিক উত্তরাধিকারীর পাশাপাশি অর্থনৈতিক নেতৃত্বেও নিজের স্থান শক্ত করছেন।