জাপান ও চীনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপড়েনের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সামুদ্রিক খাবার। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক বক্তব্যকে “চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ” হিসেবে দেখছে বেইজিং। এর জেরেই চীন হঠাৎ করে জাপান থেকে সব ধরনের সামুদ্রিক খাবার আমদানি স্থগিত ঘোষণা করেছে।
৭ নভেম্বর জাপানের সংসদে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, চীন যদি তাইওয়ানে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে, তা জাপানের জন্য “অস্তিত্ব-বিপন্ন পরিস্থিতি” হিসেবে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজনে জাপান সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারে। এই মন্তব্যকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে চীন হুঁশিয়ারি দেয়—বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে শক্ত প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই প্রতিশোধের প্রথম ধাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই আমদানি নিষেধাজ্ঞা।
চীন ও হংকং জাপানের মোট সামুদ্রিক খাবার রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশের বেশি কিনে থাকে। ফুকুশিমার তেজস্ক্রিয় পানি নিঃসরণের পর আরোপিত পুরোনো নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল হয়েছিল, ফলে জাপান ধীরে ধীরে চীনা বাজারে ফেরার চেষ্টা করছিল।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং স্পষ্টভাবে বলেছেন, “জাপানি সামুদ্রিক খাবার চীনে রপ্তানি হলেও এর কোনো বাজার থাকবে না।”
জাপানের মুখ্য ক্যাবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, চীন আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে টোকিওকে এখনো কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে চীন তাদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে সতর্ক করেছে এবং জাপানি চলচ্চিত্রের মুক্তিও সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
এই টানাপড়েন শুধু বাণিজ্য বা খাবার নিয়ে নয়—এর কেন্দ্রে রয়েছে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক হিসাব। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে জাপানের অবস্থান, তাইওয়ান প্রশ্নে তাদের কঠোর অবস্থান এবং এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে এর প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ আধুনিক কূটনীতিতে নতুন ধরনের বার্তা। সামুদ্রিক খাবার এখন কেবল পণ্য নয়—এটি দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।