কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাথী ফসল চাষ করে বড় লাভের মুখ দেখেছেন পিয়ারপুর ইউনিয়নের কৃষক মোঃ শাহীন হোসেন। মাত্র ৬০ হাজার টাকা খরচ করে ৬৬ শতাংশ জমিতে মরিচের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে লাউ চাষ করে দুই মাসেই প্রায় চার লাখ টাকা আয় করেছেন তিনি। এখনো তাঁর খেতে ঝুলছে দুই হাজারের বেশি লাউ।
চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল। ঠিক তখনই দৌলতপুর কৃষি অফিসের পরামর্শে মরিচের সঙ্গে লাউ রোপণ করেন শাহীন। মরিচ গাছ পরে নষ্ট হয়ে গেলেও লাউ গাছ ভালো থাকে এবং দ্রুত ফল দিতে শুরু করে। এতে ক্ষতির বদলে বিপরীত চিত্র দেখা যায় তার খেতে—জমি ভরে ওঠে শত শত লাউয়ে।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক মোঃ শওকত হোসেন ভূঁইয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীনসহ কর্মকর্তারা শাহীনের জমি পরিদর্শন করেন। তারা রোগবালাই দমন, সার ব্যবহারের নিয়ম ও সবজি পরিচর্যা বিষয়ে পরামর্শ দেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় শাহীন মরিচের সঙ্গে ‘রনক’ ও ‘কুসুম’ জাতের লাউয়ের বীজ রোপণ করেন। সঙ্গে ব্যবহার করেন ভারমি কম্পোস্টসহ প্রয়োজনীয় সার। নিয়মিত পরিচর্যায় তিনি অল্প সময়ে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেয়েছেন।
কৃষক শাহীন বলেন, “বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি দাঁড়িয়েছিল, তাই বীজ রোপণে দেরি হয়েছে। না হলে আরও ভালো দামে লাউ বিক্রি করতে পারতাম। দুই মাসে মরিচ আর লাউ মিলিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা পেয়েছি। আজই ৩০ টাকা দরে ২০৬ পিস লাউ বিক্রি করেছি।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও কৃষি অফিসের পরামর্শ মানলে সাথী ফসল চাষ দৌলতপুরে আরও অনেক কৃষকের জন্য লাভজনক হতে পারে।