রামু, কক্সবাজার: রামু ক্যান্টনমেন্টের শান্ত পাহাড়ি এলাকায় ঘটে গেল এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা, যা আরও একবার প্রমাণ করল মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি। মানুষের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এক মা হাতি ও তার বাচ্চার পুনর্মিলন ঘটালো বন বিভাগ ও ক্যান্টনমেন্টের দায়িত্বশীল সদস্যরা।
রামু ক্যান্টনমেন্টের প্রাকৃতিক পরিবেশে মা ও বাচ্চা হাতির অবাধ বিচরণ ছিল এক স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু হঠাৎ করে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়। মানুষের তাড়া খেয়ে মা হাতিটি ভয় পেয়ে দ্রুত পাহাড়ের ওপর উঠে যায়। ছোট্ট বাচ্চাটি মায়ের পিছু নিতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে পাহাড় থেকে নিচে পড়ে যায়। ব্যথায় কাতর বাচ্চা হাতির করুণ অবস্থা দেখে স্থানীয়দের মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।
ক্যান্টনমেন্টের দায়িত্বশীল সদস্যরা দ্রুত বাচ্চা হাতিটিকে উদ্ধার করেন এবং রাজারকুল রেঞ্জ অফিসে পাঠান। খবর পেয়ে এনভায়রনমেন্টাল রেসপন্স টিম (ই.আর.টি) বন বিভাগকে জানায়। এরপর ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পরম যত্নে বাচ্চা হাতিটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। দলের সদস্যরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন যে, বাচ্চাটিকে তার মায়ের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাচ্চা হাতিটিকে বনের ভেতরে ছেড়ে দেওয়া হয়। উপস্থিত সকলে রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করতে থাকেন। সকলের প্রার্থনা ছিল, মা হাতিটি যেন ফিরে আসে। প্রায় ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষার পর সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি আসে। বাচ্চা হাতির কান্নার শব্দ শুনে মা হাতিটি দ্রুত ছুটে আসে এবং পরম মমতায় তার ব্যথাতুর বাচ্চাকে বুকে জড়িয়ে নেয়।
মা হাতিটি এতক্ষণ দূরে কোথাও দাঁড়িয়ে তার সন্তানের জন্যই অপেক্ষা করছিল। এই ঘটনাটি আরও একবার মনে করিয়ে দিল যে, মায়ের ভালোবাসা কতটা গভীর এবং অদম্য। প্রকৃতি যেন তার নিজস্ব উপায়ে এই চিরন্তন সত্যটি মানুষকে শিক্ষা দিল। এই হৃদয়গ্রাহী ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আরও সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছে।