আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ (সদর) আসনের প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনীর কৃতি সন্তান মজিবুর রহমান মঞ্জু। শনিবার (২২শে নভেম্বর) সকালে ফেনী শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেন। এরই মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার ব্যানার-পোস্টার লাগানো শুরু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা এবি পার্টির আহবায়ক মাস্টার আহসানুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম বাদল। এছাড়াও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জু বলেন, এমপি নির্বাচিত হলে ব্যক্তিগত বাড়িতে শালিস করবেন না এবং প্রশাসনের কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না। বাজার বা স্কুল কমিটির গঠনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারও করবেন না। তিনি আরও বলেন, সরকারি দপ্তরগুলোতে সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগ, দপ্তরভিত্তিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি বরাদ্দের তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন।
মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সেনা ব্রিগেড স্থাপনে উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণে স্থানীয়দের সহযোগিতা চান তিনি। জাতীয় রাজনীতিতে নিজের পরিচিতি কাজে লাগিয়ে ফেনীর বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দসহ সড়ক উন্নয়ন ও শিক্ষাখাতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন।
মঞ্জু বলেন, “পুরোনো তর্ক-বিতর্ক বাদ দিয়ে সমস্যার সমাধানে মন দিতে হবে। খারাপ লোক নির্বাচিত হলে পরিণতি আরও খারাপ হবে। পরিবর্তন এখনই শুরু করতে হবে।” তিনি ফেনীবাসীর প্রতি ইতিবাচক রাজনীতির পক্ষে সমর্থন জানানোর আহবান জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মঞ্জু বলেন, ডিসি-এসপি নিয়োগে বড় দুই দলের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উদ্বেগজনক। জামায়াতের একজন নেতার প্রশাসন দখলের বক্তব্যেরও তিনি নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের পর সবাই স্বাধীনভাবে রাজনীতি করছে—এটাই বড় পরিবর্তন।”
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী পদে কেউ দুইবারের বেশি থাকতে না পারা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে বিরোধী দলের মতামত বাধ্যতামূলক করার মতো সংস্কার বাস্তবায়িত হলে আগামী দশ বছরে দেশ আরও বদলে যাবে। সরকার প্রধানকে কঠোর সমালোচনা করার এখনকার সুযোগকেও তিনি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখেন।
বিএনপির সাথে জোট না করার কারণ ব্যাখ্যা করে মঞ্জু বলেন, বিএনপির বহু নেতা দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছেন, তাই তাদের মনোনয়ন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানে নির্দিষ্ট কিছু দল সামনে থেকে ভূমিকা রেখেছে, তাদের নিয়ে নতুন জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ২৫ নভেম্বর এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
তিনি বলেন, এমপি না হলেও আজীবন ফেনীবাসীর জন্য কাজ করবেন। বিদেশিদের হাতে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ায় ভুল দেখেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচন নিয়ে সংশয় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না—সেই প্রশ্ন এখনো আছে।”
ফেনী বিএনপির সব পক্ষ চাইলে তিনি জোটের প্রার্থী হতে আপত্তি নেই জানালেও কাউকে কষ্ট দিয়ে এমপি হতে চান না।
অন্যদিকে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আওয়ামী লীগের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা যেতে পারে।