বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বাউলশিল্পীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে—মানিকগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে বাউলশিল্পীদের ওপর হামলা, হুমকি এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো দেশের সংস্কৃতি চর্চার স্বাধীনতার জন্য বড় ধরনের হুমকি।
২০ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওরে এক গানের আসরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউল আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ২৩ নভেম্বর তার মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে তার ভক্ত–অনুরাগীদের ওপর হামলা হয়, যেখানে প্রায় ১০ জন আহত হন। ২৬ নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়েও বাউলশিল্পীদের ওপর আবারো হামলার ঘটনা ঘটে। ফেডারেশন জানিয়েছে—গত কয়েক দিন ধরে দেশের নানা জায়গায় বাউল ও অন্য লোকজ ধারার শিল্পীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে তাদের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়—আবুল সরকারের বক্তব্য শিল্পমান অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য না হলেও, তার ব্যক্তিগত বক্তব্যের দায়ে দেশের সব বাউলশিল্পীকে টার্গেট করা ভুল এবং এটি আইনের শাসনকেই চ্যালেঞ্জ করে। একজন নাগরিক হিসেবে আবুল সরকারের বিচার প্রক্রিয়া আইনগতভাবেই হওয়া উচিত; কিন্তু তাকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা, হুমকি ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তা রাষ্ট্র ও সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন মনে করে—বাংলাদেশ বহু ধর্ম, সংস্কৃতি ও লোকজ ধারার দেশ। লালন, হাছন রাজা, শাহ আব্দুল করিমের মতো সাধকদের এই মাটিতে সব মত ও ধারার সহাবস্থান থাকা উচিত। ফেডারেশন বলেছে—সংস্কৃতিচর্চা, মত প্রকাশ এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সমান সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বিবৃতিতে তারা উদ্বেগ জানিয়ে উল্লেখ করে—এর আগেও কিছু এলাকায় মাজার, ওরস ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। জুলাই ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পর অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক ঘটনা সেই মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ফেডারেশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, কিন্তু বিচারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীভিত্তিক প্রতিহিংসা চালানো, হামলা করা বা অন্যের জীবনের নিরাপত্তা নষ্ট করা অপরাধ। এসব থামাতে এবং সংস্কৃতি চর্চার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা প্রশাসনের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
বিবৃতির শেষ অংশে ফেডারেশন বলেছে—বাউল, ফকিরসহ সব ধর্মীয় ও লোকজ ধারার শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উগ্রতার মাধ্যমে দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা বন্ধ করাই এখন সময়ের দাবি।