কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় এলাকায় যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় উচ্চমূল্য ও নিরাপদ ফসল উৎপাদন নিয়ে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এ মাঠ দিবস হয়। এতে কৃষক, কৃষাণী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষিবিদরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস বলেন, নিরাপদ ফসল উৎপাদন এখন জরুরি। কম খরচে বেশি ফলন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের আয় বাড়াতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দৌলতপুরের কৃষকরা উচ্চমূল্যের নিরাপদ ফসল উৎপাদনে এগিয়ে আসায় এ এলাকা ভবিষ্যতে একটি মডেল হিসেবে গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক চাষাবাদে অভ্যস্ত করা। উৎপাদন ব্যয় কমানো, সংগ্রহোত্তর ক্ষতি হ্রাস এবং কৃষকদের লাভজনক বানিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
মাঠ দিবসে বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কৃষিবিদ মোঃ মহসীন আলী বলেন, নিরাপদ সবজি ও ফল উৎপাদনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, অর্গানিক উপাদান ব্যবহার, উন্নত জাত, সঠিক সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের মাঠে সরাসরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাগত বক্তব্যে দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রেহানা পারভীন বলেন, এই অঞ্চলে একসময় তামাক চাষ বেশি ছিল। প্রকল্পের সহায়তায় কৃষকরা এখন তামাকের বদলে উচ্চমূল্যের সবজি ও ফল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রতিটি কৃষকের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে কাজ করছেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আলী আহম্মেদ। মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা রোগবালাই দমন, প্রযুক্তি ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব কৃষি বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেন।
মাঠ দিবসে কৃষকরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপদ ফসল উৎপাদনে উৎসাহ প্রকাশ করেন। স্থানীয় কৃষক আনিসুর রহমান জানান, এবার তিনি ৭ বিঘায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ করেছেন। মোনাজাত আলী ৩.৫ বিঘায় এবং জালাল উদ্দিন ১৫ বিঘায় তামাকের বিকল্প হিসেবে পেঁয়াজ চাষ করেছেন।
শেষে অতিথিরা উচ্চমূল্যের নিরাপদ সবজির প্লট পরিদর্শন করেন। মাঠ দিবসকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে কৃষকদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, দৌলতপুরকে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের সফল অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, দৌলতপুরে তামাকের বিকল্প হিসেবে পেঁয়াজ চাষ বাড়ছে। চলতি বছরে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে ১০৪ হেক্টরে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪০ হেক্টর। শীতকালীন পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে ৩,৬৩০ হেক্টরে, যা লক্ষ্যমাত্রার (৩,২৪১ হেক্টর) তুলনায় ৩৮৯ হেক্টর বেশি।