মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের পাঠানো নতুন প্রত্যর্পণ আবেদনটি ভারত “বিবেচনা” করছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিতিতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এরপরই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ নভেম্বর আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতের কাছে চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে দন্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রন্ধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, আবেদনটি দেশের নিজস্ব বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তাঁর ভাষায়, ভারতের লক্ষ্য “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশকে সমর্থন করা”।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, গত বছরের আবেদনের কোনো জবাব না মিললেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন—বিচার শেষ, রায় ঘোষণা হয়েছে। তাঁর আশা, ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে।
তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ভারত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগে এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেবে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেশে জাতীয় নির্বাচন। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদনটি এখন স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় পর্যায়ে সমন্বয় করে যাচাই-বাছাই হচ্ছে। কূটনৈতিক চ্যানেলের আলোচনাও চলছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হতে পারে বলে তাঁরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি শুধু আইনি নয়—দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক, জনমত এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপরও এর প্রভাব পড়বে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।