বিশ্বজুড়ে মাংস খাওয়ার প্রবণতা দেশভেদে ব্যাপকভাবে ভিন্ন। কোনো দেশে বার্ষিক মাথাপিছু ভোগ ৩–৪ কেজির মতো কম, আবার কোথাও তা ১৪৮ কেজি পর্যন্ত পৌঁছেছে। সংযুক্ত মানচিত্রে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বৈশ্বিক খাদ্যাভ্যাস, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং পরিবেশগত চাপ সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশ টোঙ্গা, যেখানে বার্ষিক মাথাপিছু মাংস ভোগ ১৪৮ কেজি—বিশ্বে সর্বোচ্চ।
এ ছাড়া—
- যুক্তরাষ্ট্র: ১২৩ কেজি
- অস্ট্রেলিয়া: ১১২ কেজি
- নিউজিল্যান্ড: ৮৬.৬ কেজি
- কানাডা: ৯১ কেজি
উত্তর আমেরিকা এবং ওশেনিয়া অঞ্চলে মাংস ভোগের মাত্রা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি। উচ্চ আয়ের দেশ, রেড মিটের সহজ প্রাপ্যতা এবং ইতিহাসগত খাদ্য সংস্কৃতি এ প্রবণতার প্রধান কারণ।
ইউরোপের দেশগুলোতে ভোগের মাত্রা তুলনামূলকভাবে সমান হলেও দেশভেদে পার্থক্য রয়েছে—
- স্পেন: ১০৫ কেজি
- ফ্রান্স: ৮৪.৬ কেজি
- জার্মানি: আনুমানিক ৮৪ কেজি
- যুক্তরাজ্য: ৮৪.১ কেজি
- নরওয়ে: ৭১.৬ কেজি
ইউরোপীয়দের মাংস ভোগ খাদ্য নিরাপত্তা, উন্নত কৃষি ব্যবস্থা এবং জীবনমানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এশিয়ায় তুলনামূলকভাবে কম মাংস খাওয়া হলেও চীন, জাপান, হংকং ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ ব্যতিক্রম—
- চীন: ৭০.৬ কেজি
- জাপান: ৬০.৪ কেজি
- হংকং: ১২৩ কেজি — এশিয়ায় সর্বোচ্চ
- মালয়েশিয়া: ৭০.৮ কেজি
- থাইল্যান্ড: ২৫.৯ কেজি
- ভারত: ৩.৭ কেজি — বিশ্বে সর্বনিম্নের মধ্যে অন্যতম
বিশেষত ভারতের অতি কম ভোগ ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও খাদ্যাভ্যাসগত কারণে।
আফ্রিকার অধিকাংশ দেশে মাংস ভোগ খুবই কম—
- বুরুন্ডি: ৫.৮ কেজি
- রুয়ান্ডা: ৮ কেজি
- মাদাগাস্কার: ২১.৮ কেজি
- দক্ষিণ আফ্রিকা: ৬৫.২ কেজি — ব্যতিক্রমী উচ্চ ভোগ
অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্য শস্যের ওপর নির্ভরতা এবং পশুপালনের অনিশ্চয়তা কম ভোগের প্রধান কারণ।
দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলে গরুর মাংস সবচেয়ে জনপ্রিয়—
- ব্রাজিল: ৯৮.৮ কেজি
- আর্জেন্টিনা: ১১১.৩ কেজি (মানচিত্রে অঞ্চলভেদে ১১৩–১১৮-এর আশপাশ)
- চিলি: ৯২.৯ কেজি
অঞ্চলটির শস্যভিত্তিক পশুপালন এবং গরুর মাংস রপ্তানি ভিত্তিক অর্থনীতি এখানে মাংস ভোগ প্রভাবিত করে।
মানচিত্রটি দেখায়—
- উন্নত ও উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে মাংস ভোগ বেশি।
- উন্নয়নশীল ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
- খাদ্যাভ্যাস, ধর্ম, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি মাংস ভোগের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিশ্বে মাংস ভোগ বাড়তে থাকায় পরিবেশবিদরা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। কারণ—
- মাংস উৎপাদনে পানির ব্যবহার অনেক বেশি।
- গবাদিপশুর মিথেন নিঃসরণ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
- বন উজাড় করে পশুখাদ্যের জমি প্রস্তুত করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চভোগী দেশগুলোতে বিকল্প প্রোটিন, টেকসই কৃষি এবং ভোগ কমানোর দিকে অগ্রসর হওয়া জরুরি।
মানচিত্রটি বিশ্বে মাংস ভোগের এক গভীর বৈষম্যময় বাস্তবতা তুলে ধরে—কোথাও ভোগের মাত্রা অত্যন্ত বেশি, কোথাও খুবই কম। খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সামর্থ্য, সংস্কৃতি এবং সরকারি নীতির সমন্বিত প্রভাবে এই বৈচিত্র্য বজায় রয়েছে। বৈশ্বিক পরিবেশগত চাপ কমাতে ভবিষ্যতে খাদ্যাভ্যাস ও উৎপাদন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।