চিন ভ্রমণের গল্পে ভেসে উঠল বন্ধন ও অভিজ্ঞতার নতুন আলো

 

৫ ডিসেম্বর শুক্রবার, মোগল সাম্পান, ধানমন্ডি— সকালের নরম আলোয় রেস্তোরাঁর ভেতর যেন এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়েছিল। । দিনটি শুধু একটি সাধারণ শুক্রবার ছিল না; এটি ছিল ফেলো রোটারিয়ান সেলিম সুলাইমান এর নতুন ভ্রমণগ্রন্থ “মুতিয়ানইওর মহাপ্রাচীর ও অতঃপর”–এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচনের দিন।

রোটারি পরিবারে সেলিম সুলাইমান সবসময়ই পরিচিত তাঁর শান্ত স্বভাব, মমতাময় ব্যবহার এবং ভ্রমণ–প্রেমের জন্য। বহুদিন ধরেই তিনি বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করে নানা অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করেন। কিন্তু এই বইটি তাঁর ভ্রমণ–অনুভবের গল্পকে এক নতুন রকম ভাষা দিয়েছে—আরও জীবন্ত, আরও মানবিক।

বইটির কেন্দ্রবিন্দু অবশ্যই চিনের বিখ্যাত মহাপ্রাচীর। তবে শুধু মহাপ্রাচীরের শৌর্য–গাথাই নয়; এর ভেতরে রয়েছে লেখকের দেখা মানুষ, সংস্কৃতি, শহরের সরব ব্যস্ততা, গ্রামাঞ্চলের নিরালা পথ, খাবার, হাসিমুখ আর চীনা জনগণের অতিথিপরায়ণতার স্পর্শ—সব মিলিয়ে যেন পুরো এক দেশের প্রতিচ্ছবি।

মোগল সাম্পানে অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল পরিচিত সুর, প্রাণবন্ত আলাপ আর স্বাগত হাসি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন রোটারি ক্লাবের সদস্যরা সেলিম সুলাইমানকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দেন। কেউ তাঁর ভ্রমণগল্পের কথা বলেন, কেউ আবার তাঁর লেখার ধারা নিয়ে নিজেদের মুগ্ধতার কথা জানান।

মঞ্চে যখন বইটি উন্মোচিত হলো, সেই মুহূর্তটিতে উপস্থিত সবাই অনুভব করলেন এক ধরনের সম্মিলিত আনন্দ—কারণ এটি শুধু একজন মানুষের ভ্রমণ–বৃত্তান্ত নয়, বরং একটি অভিজ্ঞতার অংশীদার হওয়ার সুযোগ।

অতিথিদের বক্তব্যে উঠে আসে একটি বিষয়—“মুতিয়ানইওর মহাপ্রাচীর ও অতঃপর” শুধু ভ্রমণ গল্প নয়; এটি একাধারে শেখার, জানার এবং পৃথিবীকে অন্য চোখে দেখার গল্প। চীনের মুতিয়ানইও (Mutianyu) অংশের মহাপ্রাচীর তুলনামূলক কম ভিড়ের ও প্রকৃতির খুব কাছে। সেলিম সুলাইমান সেখানে হেঁটে বেড়ানো, পাহাড়ঘেরা পথ, শীতল হাওয়া আর স্থাপত্যের বিস্ময়কে যে ভাষায় বর্ণনা করেছেন, তা পাঠককে প্রায় সরাসরি সেখানে পৌঁছে দেয়।

তিনি আরও তুলে ধরেছেন—চীনা সমাজের নিয়মানুবর্তিতা, দ্রুত উন্নয়ন, ঐতিহ্য রক্ষার অবিচল প্রচেষ্টা, আর ভ্রমণে তাঁর চোখে ধরা পড়া মানবিক মুহূর্তগুলো।

অনুষ্ঠানে আলোচনা হয় বইটির লেখনশৈলী নিয়ে। বইটি সহজ ভাষায় লেখা, যেন বন্ধুর কাছে গল্প বলা। যেখানে প্রতিটি অভিজ্ঞতা ঘটনাভিত্তিক, প্রত্যক্ষ ও মানবিক। পাঠক যেন লেখকের সঙ্গে হাঁটে, দেখে, অনুভব করে।

সেলিম সুলাইমান বলেন—তিনি ভ্রমণ করেন কৌতূহল নিয়ে, আর লেখেন হৃদয় দিয়ে। তাঁর মতে, “প্রতিটি ভ্রমণ মানুষকে নতুন করে গড়ে। এই বইটিও সেই যাত্রার অংশ।”

অনুষ্ঠান শেষে ছিল কেক কাটা ও সৌহার্দ্যের ছবি তোলা। বন্ধু, সহকর্মী, রোটারিয়ান—সবার হাসিতে মুখর ছিল মোগল সাম্পানের হলরুম।

এই উন্মোচন যেন শুধু একটি বই প্রকাশ নয়; এটি ছিল এক লেখকের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সালাম, তাঁর অভিজ্ঞতার প্রতি শ্রদ্ধা, এবং বিশ্বকে জানার আকাঙ্ক্ষার প্রতি উদযাপন।

“মুতিয়ানইওর মহাপ্রাচীর ও অতঃপর” আগামী দিনগুলোতে পাঠকের মনে নতুন ভ্রমণের আগ্রহ সৃষ্টি করবে—এই প্রত্যাশাই অনুষ্ঠানে সবাই ভাগাভাগি করে নিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *