বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস (আইডিপিডি)–২০২৫ উপলক্ষে ৪ ডিসেম্বর রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সম্মেলন। জাতিসংঘের বাংলাদেশ অফিস, সরকারি সংস্থা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন (OPDs), সিভিল সোসাইটি, উন্নয়ন অংশীদার ও বেসরকারি খাত—সবাই একসাথে এই আয়োজনে অংশ নেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—“প্রতিবন্ধী-অন্তর্ভুক্ত সমাজ গড়ে সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা।”
সম্মেলনটি আয়োজন করে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা—ইউএনডিপি, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), ইউএন উইমেন, ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএনএফপিএ, ইউনেস্কো ঢাকা এবং সাইটসেভার্স। অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তাদের সংগঠন, সিভিল সোসাইটি, বিভিন্ন এনজিও, উন্নয়ন অংশীদার ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা জানান, দেশে প্রতিবন্ধী মানুষ এখনো চাকরি ও সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে নানা কাঠামোগত বাধার মুখে পড়েন। বিশেষ করে তথ্যের অভাব, সঠিক সনাক্তকরণ ব্যবস্থা না থাকা, দক্ষতা উন্নয়ন সুযোগ কম এবং কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি না থাকা বড় প্রতিবন্ধকতা। তবে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন,
“প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি শুধু চাকরি দেওয়ার ব্যাপার নয়—এটা নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং পুরো জীবনে সামাজিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়।”
তিনি প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে তিনটি জরুরি পদক্ষেপ তুলে ধরেন—
১. সঠিক প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ ও তথ্যব্যবস্থা তৈরি করা, যাতে কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা ঠিকভাবে নিশ্চিত করা যায়।
২. দক্ষতা উন্নয়ন ও টিভিইটি প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়ানো, যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন।
৩. নিয়োগদাতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং দেশজুড়ে কর্মসংস্থান-মিলান কার্যক্রম সম্প্রসারণ, যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরি পাওয়ার সুযোগ বাস্তবায়িত হয়।
২০২৩–২০২৫ মেয়াদের জাতিসংঘের ‘ডিসঅ্যাবিলিটি চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে টুনন জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি টাস্ক টিমকে সমন্বয় করছেন। আইএলও জানায়, তারা জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে মিলে জাতীয় নীতি ও কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তিকে আরও শক্তভাবে এগিয়ে নিতে কাজ চালিয়ে যাবে।
সম্মেলনের আলোচনায় স্পষ্ট হয়—প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্যও অপরিহার্য।